নিখোঁজ হয়ে যাননি,বরং স্বামী ও শ্বশুরবাড়ি লোকের অত্যাচারে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন।  দিন পনেরো পর অবশেষে খোঁজ মিলল চুঁচুড়ার 'টিকটকার' গৃহবধূর। তিনি নিজেই মা-কে ভিডিও করে জানিয়েছেন, দিল্লিতে এক বান্ধবীর কাছে সঙ্গে রয়েছেন। খবর তেমনই।

চুঁচুড়ার ভগবতীডাঙা এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ মণ্ডল। বছর কয়েক আগে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় প্রতিমা নামের ওই গৃহবধূর। ওই দম্পতির শিশুকন্যার বয়স পাঁচ বছর। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য নামে একটি প্রোফাইল খোলেন প্রতিমা। নিজের প্রোফাইলে নিয়মিত টিকটক ভিডিও আপলোড করতেন তিনি। বস্তুত, টিকটক ভিডিও-র দৌলতে মাত্র ন'মাসে ওই গৃহবধূর ফলোয়ার্সের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। পরিচিত বাড়ছিল প্রতিমার, রোজগারও মন্দ হচ্ছিল না। আপত্তি করার তো প্রশ্নই নেই, বরং উৎসাহ দিতে স্ত্রীকে দুটি দামী স্মার্ট কিনে দিয়েছিলেন প্রতিমার স্বামী। ভিডিও শুট করার জন্য দিল্লি, রাজস্থান,পাটনাও গিয়েছিলেন প্রতিমা। সবসময় যে সঙ্গে স্বামী থাকতেন, এমনটা কিন্তু নয়। একা একাই নিজের কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতি বহুদূর পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছিলেন ওই গৃহবধূ।

জানা গিয়েছে, কাজের সুবাদে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় প্রতিমা-র।  তিনি ওই গৃহবধূকে দিল্লিতে ব়্যাম্প শো-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। স্বামী প্রসেনজিৎ মণ্ডল জানিয়েছেন, গত ৩১ ডিসেম্বর দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রতিমা। মাঝে একদিন ফোনে স্ত্রী-র সঙ্গে কথা হয় তাঁর। কিন্তু তারপর থেকে যতবারই ফোন করেছেন, ততবারই ফোন সুইচড অফ পেয়েছেন। শেষপর্যন্ত স্ত্রী-এর নামে চুচুড়া থানা নিখোঁজ ডায়ের করেন প্রসেনজিৎ।   

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিডিও কলে নিজের মা-এর যোগাযোগ করেন প্রতিমা। জানা গিয়েছে, ভিডিও কলে ওই গৃহবধু তাঁর মা-কে জানিয়েছেন, শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হত।  কিন্তু মেয়ের কথা ভেবে থানায় অভিযোগ করেননি। ইদানিং অত্যাচার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়ি ছেড়েছেন।  এখন দিল্লিতে এক বান্ধবীর সঙ্গে রয়েছেন প্রতিমা। টাকার অভাবে এখনই বাড়ি পারবেন না তিনি। স্ত্রীর উপর অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিমা-এর স্বামী প্রসেনজিৎ। ওই যুবকের পাল্টা দাবি, অত্যাচার দূর অস্ত, স্ত্রীর বাপের বাড়ির সংসারও তাঁকেই চালাতে হত। শ্বশুরবাড়িকে বদনাম করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছেন প্রতিমা।