রাজ্য় সরকার এবং রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে বারবার সংঘাতে জড়াচ্ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তার মধ্যেই কালীপুজোকে কেন্দ্র করে বরফ গলার ইঙ্গিত। রবিবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কালীপুজোয় সস্ত্রীক হাজির থাকবেন রাজ্যপাল। এ দিন বারাসতে কালীপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে এ কথা নিজেই জানিয়েছেন ধনখড়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নিজের চিঠি লিখে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজ্যপাল অবশ্য বলেন, প্রথমে তিনিই চিঠি লিখে মুখ্যমন্ত্রীর থেকে ভাইফোঁটা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে সেই চিঠি হাতে পেয়েই পাল্টা চিঠি দিয়ে রাজ্যপালকে নিজের বাড়ির কালীপুজোয় আমন্ত্রণ জানান মমতা। 

এ দিন বারাসতে একটি কালীপুজোর উদ্বোধনে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। কিন্তু রাজ্যপালকে উদ্বোধনে ডাকায় ওই পুজো কমিটির মাথায় থাকা বারাসত পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান সুনীল চক্রবর্তী সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। এই বিষয়ে রাজ্যপালকে প্রশ্ন করতেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যাওয়ার কথা নিজেই জানান জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেন, 'আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে কয়েকদিন আগে চিঠি লিখে অনুরোধ করে জানাই যে ভাইফোঁটার দিন আমি এবং আমার স্ত্রী আপনার বাড়িতে যেতে চাই। উনি উত্তরবঙ্গ সফর সেরে কলকাতায় ফেরার পরেই চিঠি দিয়ে আমাদের রবিবার তাঁর বাড়ির কালীপুজোয় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ পেয়ে অত্যন্ত খুশি। আমরা অবশ্যই সেখানে যাব। আমার মনে হয় এর পরে আমার আর কোনও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই।'


প্রতি বছরই মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে ধুমধাম করে কালীপুজো হয়। সেখানে রাজ্যের মন্ত্রী, আমলা থেকে শুরু করে বহু বিশিষ্ট মানুষই উপস্থিত থাকেন। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অতিথি আপ্যায়ণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নিজেও যে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পুজো নিয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহল, তা এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন জগদীপ ধনখড়। রাজ্যপাল বলেন, 'আমি শুনেছি ১৯৭৮ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে কালী পুজো হচ্ছে। আর এবার তা একান্ন বছরে পড়ল। আমরা নতমস্তকে তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি।' 

এ রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বার বার রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন রাজ্যপাল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, রাজ্যপালের নিরাপত্তা কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর হাতে যাওয়া থেকে শুরু করে রাজ্যপালের প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের সহযোগিতা না করার অভিযোগ, একাধিক ইস্যুতে মতবিরোধ সামনে এসেছে। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে একদিকে যেমন রাজ্যের মন্ত্রীরা পর পর বিবৃতি দিয়েছেন, তেমনই পাল্টা জবাব দিয়েছেন ধনখড়ও। বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে শাসক দলের নেতাদের খুব একটা লাভ হবে না। রাজ্যপালের পদটি যে শুধুমাত্র আলঙ্কারিক নয়, সেটাও ভালভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন ধনথড়। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর থেকে তাঁর ভাইফোঁটা নেওয়ার অনুরোধ এবং পাল্টা মমতার আমন্ত্রণে বরফ কতটা গলে, সেটাই এখন দেখার। 

এর আগে রেড রোডে পুজো কার্নিভালেও রাজ্যের তরফে আমন্ত্রণ জানানো হয় রাজ্যপালকে। সেখানে সস্ত্রীক উপস্থিতও হন ধনখড়। পরে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁকে অপমান করা হয়েছে।