চিকিৎসকদের কর্মবিরতি নিয়ে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী,  এ দিন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি এবং তার জেরে তৈরি হওয়া সংকট নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। একই সঙ্গে রাজ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাকেও 'গভীর উদ্বেগের বিষয়' বলেও রাজ্যের কাছে লিখিত পরামর্শ পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ফলে একই দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উপরে অমিত শাহের মন্ত্রক সাঁড়াশি চাপ দিল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। 

রাজ্যে জুনিয়র চিকিৎসকদেক কর্মবিরতি এ দিন পঞ্চম দিনে পড়ল। জুনিয়রদের পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য সিনিয়র চিকিৎসকও সরকারি চাকরি থেকে গণইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। ফলে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বাংলায় চিকিৎসকদের বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। সোমবারই দেশজুড়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চিকিৎসকদের সবথেকে বড় সংগঠন আইএমএ। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের একাংশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে অভিযোগও জানিয়েছিলেন। এই অবস্থায় শেষ পর্যন্ত রাজ্যের কাছ থেকে গোটা বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শুক্রবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকদের কর্মবিরতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছেন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির পিছনে বিজেপি এবং সিপিএমের মদত রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাজ্যের বিষয় বলেও বার বার দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি মতো রিপোর্ট পাঠালেও সেখানে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির এবং তার জেরে তৈরি হওয়ার সংকটের কী কারণ রাজ্য উল্লেখ করে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে নেন, সেটাও দেখার। 

ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের সম্পর্কে মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে বিজেপি। বাংলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তর প্রদেশের থেকে অনেক ভাল বলেও দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে রাজ্যকে পাঠানো লিখিত পরামর্শে বলা হয়েছে, '২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত রাজ্যে একটানা রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা স্পষ্টতই একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।' একই সঙ্গে এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা রুখতে রাজ্য কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে রাজ্যের কাছ থেকে। সবমিলিয়ে দুই ইস্যুতে রাজ্যের উপরে চাপ বাড়াল অমিত শাহের মন্ত্রক।