কাটমানি বিক্ষোভে এবার বাড়ি ভাঙচুর হল তৃণমূলের এক উপপ্রধানের। ভেঙে ফেলা হল গাড়ি, আসবাবপত্রও। আতঙ্কিত তৃণমূলের উপপ্রধান এবং তাঁর পরিবার বাড়ি ছেড়ে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিলেন। 

রবিবার বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের চানক গ্রামে। কাটমানি নেওয়ায় অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেত্রীর নাম রীনা চক্রবর্তী। তাঁর স্বামী প্রদীপ চক্রবর্তীও স্থানীয় তৃণমূল নেতা। 

আরও পড়ুন- কুড়ি দিনে ফেরাতে হবে ৪৫ লক্ষ, কাটমানি নিয়ে মহা ফাঁপড়ে তৃণমূল নেতা

গত ১৮ জুন কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় নেতাদের কাটমানি ফেরানোর নির্দেশ দেওয়ার পরেই জেলায় জেলায় বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি এবং নেতারা। রবিবার বিকেল থেকেই তৃণমূলের উপপ্রধান রীনা চক্রবর্তীর বাড়ি ঘেরাও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কয়েক লক্ষ টাকা কাটমানি নিয়েছেন রীনা দেবী এবং তাঁর স্বামী। সেই টাকা ফেরানোর দাবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। কার থেকে কত টাকা নিয়েছেন তৃণমূল নেতা- নেত্রী ওই দম্পতি, সেই হিসেব করারও দাবি জানানো হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কোনও দাবি মানতে চাননি তৃণমূলের উপপ্রধান এবং তাঁর স্বামী। এর পরে রাতেই রীনাদেবীর বাড়ি ভাঙচুর শুরু করে জনতা। বাড়ির ভিতরে ঢুকে আসবাবপত্রও ভাঙা হয়। এমনকী, তাঁদের গাড়ি ভেঙেও সেটিকে উল্টে দেয় জনতা। 

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আতঙ্কিত ওই তৃণমূল নেত্রী এবং তাঁর পরিবার গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় অফিসে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সোমবারও বাড়ি ফিরতে পারেননি তাঁরা। রীনাদেবী এবং তাঁর স্বামী দু' জনেরই অভিযোগ, বিজেপি-র উস্কানিতেই তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তাঁরা।