রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত চরমে পৌঁছল। এবার দুর্গার পুজোর কার্নিভালে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাঁর অভিযোগ, কার্নিভালের অনুষ্ঠান চলাকালীন চার ঘণ্টা ঘরে তাঁকে 'ব্ল্যাক আউট' করে রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, অপমান করেও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত করা যাবে না। 

প্রসঙ্গত গত ১১ অক্টোবর রেড রোডে দুর্গা পুজোর কার্নিভালে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এ দিনই বিস্ফোরক অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেদিন অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত থাকলেও একবারের জন্যও অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচারে তাঁকে দেখানো হয়নি। প্রসঙ্গত, কার্নিভালের ওই অনুষ্ঠানের সম্প্রচারের আয়োজনও করেছিল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেই অনুষ্ঠানের 'ফিড' সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়। ফলে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকেও আলাদা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যপালের ছবি দেখানো সম্ভব হয়নি। 

ধনখড়ের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁকে অপমান করা হয়েছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে এ দিন তিনি বলেন, 'এই ঘটনায় আমি অত্যন্ত ব্যথিত এবং অপমানিত বোধ করেছি। তিন দিন চুপ করে থাকার পরে আজ আমি প্রতিক্রিয়া দিতে বাধ্য হচ্ছি। আমি যে পদে রয়েছি, তাতে কীভাবে আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হল? সবাই চোখের সামনে সব দেখেছে, আমি বিদেশ থেকেও ফোন পেয়েছি। অনেকেই জিজ্ঞেস করছে এটা কী জরুরি অবস্থা চলছে?'

সংবাদমাধ্যমেও কেন এই বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা হয়নি, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, 'সংবাদমাধ্যমেও আমি আর্জি জানাব, আপনারা এই প্রশ্নগুলো তুলুন, তদন্ত করে দেখুন কেন এমন আচরণ করা হলো। বাংলা সংস্কতির পীঠস্থান, সেখানে চার ঘণ্টা ধরে আমার সঙ্গে এই অসৌজন্য এবং অভদ্রতা কীভাবে করা হলো?' 
রাজ্যপাল অবশ্য মনে করছেন, তাঁর সঙ্গে এই আচরণ রাজ্যের মানুষই ভালভাবে নেবেন না। কার্যত হু্ঁশিয়ারির সুরেই তিনি বলেন, 'আমাকে অপমান করা মানে এ রাজ্য়ের বাসিন্দাদেরই অপমান করা। কেউ এ জিনিস সমর্থন করবেন না। আর আমাকে এ ভাবে অপমান করে কোনও লাভ নেই, আমার যা সাংবিধানিক দায়িত্ব তা আমি পালন করবই।'

প্রসঙ্গত এ রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্য সরকার এবং শাসক দলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিষয়ে দূরত্ব বেড়েই চলেছে রাজভবনের। কার্নিভালের ঠিক আগের দিনই মুর্শিদাবাদে সপরিবার শিক্ষক খুনের ঘটনা নিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এর পরে রাজ্যপালকে সংযত হওয়ার বার্তা দিয়ে পাল্টা বিবৃতি দেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যদিও রাজ্যের আমন্ত্রণ রক্ষা করে পুজো কার্নিভালে উপস্থিত হয়েছিলেন জগদীপ ধনখড়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যে মঞ্চে বসেছিলেন, তার থেকে কিছুটা দূরে আলাদা মঞ্চে বসেছিলেন রাজ্যপাল এবং তাঁর স্ত্রী। অনুষ্ঠানের শেষে অবশ্য হাসিমুখে কথাও বলতে দেখা যায় দু' জনকে। কিন্তু সেটা যে সব ছিল না, এ দিন রাজ্যপালের বক্তব্যেই তা প্রমাণিত হয়ে গেল।