সম্ভাবনা তৈরি হয়েও জট কাটছে না। এনআরএস হাসপাতালের আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়ে দিলেন, আজ নবান্নে কোনও বৈঠকে যাওয়ার কথা নেই তাঁদের। এমনকী সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি ছাড়া তাঁরা বৈঠকে রাজি নন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। ফলে এ দিন দুপুরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ফের ভেস্তে যাওয়ার পথে। 

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠক নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে এই বৈঠক করতে হবে বলে তাঁরা নিজেদের অবস্থানেও অনড়। এ দিনও তাঁরা সাফ জানিয়েছেন,রুদ্ধদ্বার কোনও বৈঠকে তাঁরা অংশ নেবেন না। সমস্যা সমাধানে দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

এ দিন সকালে বিবৃতি দিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকরা বলেন, 'এই মুহূর্তে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এই অবস্থার সবথেকে বড় শিকার। এভাবে চলতে পারে না। গতকালই আমরা বলেছিলাম যে আমরা আলোচনায় রাজি। কিন্তু বন্ধ দরজার পিছনে এই আলোচনা চলতে পারে না। যেহেতু জনগণই এই অচলাবস্থার সবথেকে বড় শিকার, তাই সরকারের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়, তা জানার অধিকার আছে মানুষের। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বলবেন, সেখানেই এই আলোচনা হবে। সংবাদমাধ্যমে নবান্নে আজকে বৈঠকের যে খবর দেখানো হচ্ছে, তা ঠিক নয়। এরকম কোনও প্রস্তাব দিয়ে আমাদের কাছে সরকারি কোনও চিঠি আসেনি। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রচার করা হচ্ছে। আমরা চাই জনগণের স্বার্থেই মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত এই সমস্যার যেন অবসান করেন।'

রবিবার রাত থেকেই শোনা যাচ্ছিল, এ দিন বেলার তিনটের সময় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠক হতে পারে। সব মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রতিনিধি নিয়ে ১৪ জন জুনিয়র চিকিৎসক নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলেও সরকারের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছিল। তবে কোনওভাবেই ওই বৈঠকে সংবাদমাধ্যমকে থাকতে দিতে রাদি ছিল না সরকার। এ দিন অবশ্য জুনিয়র চিকিৎসকরা দাবি করেছেন, তাঁদের কাছে সরকারিভাবে সোমবার বৈঠকে যাওয়ার কোনও চিঠি আসেনি। তবে এ দিনও তাঁরা বার বার বোঝাতে চেয়েছেন, আমজনতার ভোগান্তি কমাতেই তাঁরা দ্রুত কাজে ফিরতে যান। 

সোমবার জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি সপ্তম দিনে পড়ল। আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে সরকার আর নমনীয় হবে, নাকি এবার পাল্টা সরকারও কড়া অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার।