সন্দেশখালি কাণ্ডের প্রতিবাদে বিজেপি-র লালবাজার অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড কলকাতায়। মিছিল আটকাতে লাঠিচার্জ থেকে শুরু করে কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং জল কামানের ব্যবহার, সবই করল পুলিশ। দফায় দফায় বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ।  বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা, কর্মী কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁঝে অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

এ দিন সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মূল মিছিল শুরু হয়। এর পাশাপাশি ব্র্যাবোর্ন রোড, ফিয়ার্স লেন দিয়েও মিছিল লালবাজারের দিকে এগোতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় পুলিশ আক্রমণ করেছে। তার প্রতিবাদে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ এবং বউবাজার ক্রসিংয়ের মুখে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন মুকুল রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিংহ-সহ বিজেপি নেতারা। ঘটনার জেরে গোটা উত্তর এবং মধ্য কলকাতা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। শিয়ালদহ এবং হাওড়া স্টেশনে যাওয়ার পথও কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।

প্রথম দফায় সংঘর্ষের পরেও বিজেপিল সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও সতর্ক ছিল পুলিশ। কারণ ফের নতুন করে লালবাজারের দিকে বিজেপি কর্মীরা যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে সন্দেহ পুলিশের। বিজেপি নেতাদের দাবি, কাঁদানে গ্যাসের জেরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দশ থেকে পনেরোজন বিজেপি কর্মী, সমর্থক। 

এ দিন সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মূল মিছিলে অংশ নেন মুকুল রায়, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, রাহুল সিংহের মতো নেতারা। পরে বিজেপি-র অবস্থানে যোগ দেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের উপরেই বসে পড়েন মুকুল রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, "বাংলার মায়েদের কোল খালি হচ্ছে, আর মুখ্যমন্ত্রী মূর্তি প্রেম দেখাচ্ছেন। সন্দেশখালি কাণ্ডের সিবিআই তদন্ত হোক, দোষীরা শাস্তি পাক।" এ দিন পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগও দাবি করেন দিলীপবাবু।

এ দিন বিজেপি-কে ঠেকাতে অবশ্য অনেকটাই সফল পুলিশ। দ্রোনে লালবাজার সংলগ্ন এলাকায় উপর থেকে নজরদারি চালানো হয়।  লালবাজারের কন্ট্রোল রুম থেকে সেই ছবি দেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও গলি দিয়েও যাতে বিজেপি সমর্থকরা লালবাজারের দিকে এগোতে না পারেন, তা নিশ্চি করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বেলা আড়াইটে নাগাদ লালবাজার অভিযান সমাপ্ত করে বিজেপি। বেলা আড়াইটের পরে বিজেপি-র অভিযান শেষ হওযার পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।