তিনি বার বার কথা বলতে চাইলেও আন্দোলনকারীরা সাড়া দিচ্ছেন না। তার পরেও মানবিক ভাবেই চিকিৎসা সংকট কাটাতে চায় সরকার। অপমানিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনও কথা বলতে রাজি বলে জুনিয়র চিকিৎসকদের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জুনিয়র চিকিৎসকদের ভাই-বোন বলেও সম্বোধন করেন মমতা। তাঁকে পছন্দ না হলে রাজ্যপালের সঙ্গেও জুনিয়র চিকিৎসকরা আলোচনা করতে পারেন বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে চিকিৎসকদের দাবি মেনে তিনি এনআরএসে যাবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।  চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় সরকার সবরকম ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মঘটী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ সরকার নেবে না বলেও জানান তিনি। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম থেকেই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয় সরকার। ঘটনার পরদিনই বিক্ষোভরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন বলেই দাবি করেন তিনি।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে পাঠালাম, তাও কথা বলেনি, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। চিকিৎসকদের মানুষ ভগবান বলে মনে করে, তাঁরা আমাদের গর্ব। যাঁদের পরিবারের কেউ মারা যাচ্ছেন, বা অসুস্থ হচ্ছেন, তাঁরাই জানেন কী ভোগান্তি হচ্ছে।'

এ দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, 'ওঁদেরকে বলুন আগে দেশটা ঠিক করে চালাতে।' গণতন্ত্রে মাঝেমধ্যে ধর্মঘট হয় বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

 এসএসকেএমে গিয়ে তাঁর মন্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ জুনিয়র চিকিৎসকরা। মমতা এ দিন বলেন, সত্যিটা সবাই জানেন না। তিনি বলেন, 'রোগীদের ভোগান্তির খবর পেয়ে জরুরি বিভাগ চালু করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু যাওয়ার সময় হাসপাতালের মধ্যে পথ আটকে থাকা বিক্ষোভাকারীরা আমায় ধাক্কা দিয়েছে, অশ্রাব্য গালিগালাজ করেছে। তাও আমি পুলিশকে বলেছি, ওদের কাউকে গ্রেফতার করবে না। ওরা ছোট, ওদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। ওরা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে, গতকাল পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। আজও অনেক সরকারি কর্মসূচি বাতিল করে সিনিয়র চিকিৎসকদের কথাক সম্মান দিয়ে আমি আজও এখানে এসেছিলাম। তার পরেও ওরা এল না।' 

মমতার কথায়, 'এই ধরনের জটিলতা তৈরি হলে কথার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হয়। সেই জন্য প্রতিনিধি দলকে কথা বলার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলাম।' সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেখিয়ে মমতা দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা যায়। অতীতে গুজরাট, দিল্লি, রাজস্থানের মতো একাধিক রাজ্য কীভাবে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি আটকাতে জরুরি পরিষেবা চালু রাখার আইন এসমা জারি করার মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তারও উল্লেখ করেন মমতা।

তিনি বলেন, সরকার মানবিকতা, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই এখনও এসমা জারি করা বা রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার মতো পদক্ষেপ নেয়নি। মমতা এ দিনও বলেন, কথা বলার দরজা সবমসয় খোলা আছে। রাজনৈতিক দলের উস্কানিতেই জুনিয়র চিকিৎসকরা আলোচনায় রাজি হচ্ছেন না বলে অভিযোগ মমতার। তিনি দাবি করেন, শুক্রবার নবান্নে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েও তার পরে তা বাতিল করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। মমতা বলেন, নবান্ন রাজ্যে সচিবালয়। সেখানে এসে আলোচনা করাটা সম্মানের বলেও জুনিয়র চিকিৎসকদের বার্তা দেন মমতা।

মমতার অভিযোগ, চিকিৎসকদের আন্দোলনে অনেক বাইরের সংগঠন ঢুকে গিয়েছে। যদিও জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তাঁর কিছু বলার নেই বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। শুক্রবার অপর্ণা সেনের মতো বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ চিকিৎসকদের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশে মমতা বলেন, 'বুদ্ধিজীবীরা পুরো ব্যাপারটা জানেন না। সরকারকে সংবিধান মেনে কাজ করতে হয়। সরকার সবরকম ব্যবস্থা নেয় চিকিৎসকদের নিরাপত্তায়।' রাজ্যে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় তিন হাজার পুলিশ কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বিক্ষিপ্তভাবে এক শতাংশ ঘটনা ঘটলে সরকারের কিছু করার থাকে না। সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেটাই আসল বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে পছন্দ না হলে রাজ্যপালের সঙ্গেও জুনিয়র চিকিৎসকরা আলোচনা করতে পারেন বলেই দাবি মমতার। 

এনআরএস কাণ্ডেও অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে পুলিশ জামিন অযোগ্য ধারা মামলা করেছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যান্যও দাবিও সরকার খতিয়ে দেখতে রাজি বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান দিচ্ছেন না। সরকার ডেকে পাঠালেও কেন কথা বলতে আসছেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখনও শুভবুদ্ধির উদয়ের অপেক্ষা করছে সরকার। মমতা এ দিনও জুনিয়র চিকিৎসকদের বার্তা দিয়ে বলেন, 'আপনারা মানুষের জন্য কাজে যোগদান করুন, মানুষের হয়রানি হচ্ছে।'