কাটমানি নিয়ে তাঁর দেওয়া বার্তার জেরেই বিপাকে পড়েছিলেন দলের নেতা, কর্মীরা। জেলায়, জেলায় শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে সেই ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মহৎ উদ্দেশ্যে তাঁর দেওয়া বার্তার অপব্যাখ্যা করেছে বিজেপি। 

এ দিন ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, 'মহৎ উদ্দেশ্যে আমি বলেছিলান যাতে গরিব মানুষকে পরিষেবা দিতে গিয়ে কেউ যাতে তার থেকে টাকা না নিতে পারে। আর বিজেপি-র ডাকাত, গুন্ডারা এলাকায় গিয়ে বলছে টাকা ফিরিয়ে দেও। তোমরাই তো সবচেয়ে বড় ডাকাত। তোমরা গিয়ে আবার টাকা ফেরত চাইছ?'

শুধু বিজেপি নয়, কাটমানি প্রসঙ্গে সিপিএম-কেও আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন করেন, চৌত্রিশ বছর ক্ষমতায় থেকে সিপিএম কত টাকা ফিরিয়েছে? 

কাটমানি নিয়ে অস্বস্তি কাটাতে এবার দলকে পাল্টা কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। কাটমানির পাল্টা দলকে ব্ল্যাক মানি নিয়ে আন্দোলনে নামতে বলেছেন তিনি। আগামী ২৬ এবং ২৭ জুলাই গোটা রাজ্য জুড়ে কালো টাকা ফেরানোর দাবিতে তৃণমূল আন্দোলনে নামবে বলে এ দিন জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'বলুন ব্ল্যাক মানি ফিরিয়ে দেও। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে নির্বাচনে। জনগণের টাকা ফিরিয়ে দেও। বাংলায় এত ফ্ল্যাট, সম্পত্তি কোথা থেকে আসছে? চোর, ডাকাতদের সরকার কাটমানি ফেরত চাইছে। পনেরো লক্ষ টাকা করে ফিরিয়ে দেও। 

এর পরেও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বাড়িতে হামলা হলেও অবশ্য কাউকে আইনশৃঙ্খলা হাতে তুলে না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। 

কাটমানি আন্দোলনের মোকাবিলায় পাল্টা বিজেপি-র উপরে চাপ তৈরির পথও কর্মীদের বাতলে দিয়েছেন মমতা। গ্রামে গ্রামে কেন্দ্রীয় সরকারের উজালা প্রকল্পের কাটমানি ফেরত চেয়ে পাল্টা আন্দোলনে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।