আশঙ্কা ছিল দুই চব্বিশ পরগণায় সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। কিন্তু সে কতোটা শক্তিশালী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় প্রবেশের আগে পূর্ব মেদিনীপুরেই তা বুঝিয়ে দিল ভয়ঙ্কর এই ঘূর্ণিঝড়। এ দিন সন্ধেতেই পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে আঘাত হানে বুলবুল। যার জেরে গোটা জেলা অসংখ্য কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়েছে, নষ্ট হয়েছে বহু পানের বরজ। তবে রাজ্য সরকার আগাম ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলেই খবর। 

বুলবুলের জেরে ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা নিয়েছে রাজ্য় প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নবান্নের কন্ট্রোল রুমে বসে গোটা পরিস্থিতির তদারকি করেন। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ১ লক্ষ ৫৯ হাজার মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

এ দিন সন্ধের আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রথম আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। তাতে দিঘা, কাঁথি, খেজুরি, নন্দীগ্রাম, নয়াচর, রামনগরের- সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ঘণ্টায় প্রায় একশো কুড়ি কিলোমিটার গতিবেগে ওই এলাকায় ঝড় শুরু হয়। বূলবুলের দাপটে  অসংখ্য কাঁচা বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি বহু পানের বরজও নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক এবং রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে জোয়ারের আগেই বুলবুল আছড়ে পড়ায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কোথাও জলস্ফীতির কারণে নদী বাঁধের বিশেষ ক্ষতি হয়নি বলেই জানিয়েছেন মন্ত্রী। ঝড়ের সময় মন্ত্রী নিজে জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতির তদারকি করেন। 

মোট সাতটি জেলা থেকে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরানো হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দুই চব্বিশ পরগণা, দুই মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া, নদিয়া এবং হুগলি। মোট ২৩৮টি ত্রাণ শিবির খুলেছে রাজ্য সরকার।