প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানের পরে নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কট। কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের তরফে আমন্ত্রণ পেলেও আগামী ১৫ জুন নীতি আয়োগের বৈঠকে তিনি যাবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মমতা। 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নিয়েই আগামী ১৫ জুন সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে  নীতি আয়োগের বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও।  রীতি মেনে সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপস্থিত থাকার জন্য রাজ্য মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় সরকার। তার পাল্টা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, ১৫ জুনের  বৈঠকে তিনি যোগ দিচ্ছেন না। একই সঙ্গে বৈঠকে না যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতেই একগুচ্ছ অভিযোগও তুলে ধরেছেন মমতা। 

২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে যোজনা কমিশনের বদলে নীতি আয়োগ গঠন করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। প্রথম থেকেই নীতি আয়োগের ভূমিকায় খুশি নন মমতা।  সূত্রের খবর, নরেন্দ্র মোদীকে লেখা চিঠিতে ফের সেকথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গেই তিনি অভিযোগ করেছেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো না মেনেই নীতি আয়োগ গঠন করা হয়েছে। নীতি আয়োগের হাতে রাজ্যগুলিকে সাহায্য করার মতো যথাযথ আর্থিক ক্ষমতা নেই বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব রাজ্যকে নীতি আয়োগ সাহায্য করছে না বলেও অভিযোগ তাঁর। চিঠিতে মমতা লিখেছেন, এর আগেও তিনি এই বিষয়গুলি তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই তিনি এবারের বৈঠকে যাচ্ছেন না বলেই দাবি মমতার। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রথমে যাবেন বলেও শেষ পর্যন্ত যাননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ছিল, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। মমতার এই যুক্তিকে নিছক অজুহাত হিসেবেই দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতারা। এবার নীতি আয়োগের বৈঠকে না যাওয়া নিয়েও মমতার বিরুদ্ধে বিজেপি নেতারা যে সরব হবেন, তা বলাই বাহুল্য। নীতি আয়োগের বৈঠকে না গিয়ে মমতা রাজ্যকে বঞ্চিত করছেন, এমন অভিযোগ তোলারও সুযোগ পেয়ে গেলেন তাঁরা।