অনুপম সিংহ হত্যাকাণ্ডে মনুয়া মজুমদার এবং তার প্রেমিক অজিত রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বারাসত ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক। দু' জনকেই পঞ্চাশ হাজার টাকা করে জরিমানারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত একবছর কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

২০১৭ সালের ২ মে উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাসতে নিজের প্রেমিক অজিত রায়ের সঙ্গে মিলে স্বামী অনুপম সিংকে খুনের অভিযোগ ওঠে মনুয়া মজুমদারের বিরুদ্ধে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্বামীকে যখন প্রেমিক খুন করছে, তখন ফোনে সেই আর্তনাদ শুনেছিলেন স্ত্রী মনুয়া। প্রেমিক অজিতের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুনের ছক কষেছিল মুনয়াই। 

এই খুনের হত্যাকাণ্ডের তেরো দিনের মাথায় মনুয়া এবং অজিতকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুন এবং ১২০ বি ধারায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। 

প্রায় তেইশ মাস ধরে এই মামলার শুনানি চলে বারাসত আদালতে। আদালতে শুনানি শুরু হওয়ার পরে অভিযুক্ত মনুয়া এবং অজিতের উপরে হামলাও চালায় ক্ষুব্ধ জনতা। তদন্ত চলাকালীন একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছিল। তদন্ত শেষ করে আদালতে ৪৬৯ পাতার চার্জশিটজমা দিয়েছিল পুলিশ। 

ঘটনার প্রায় ছাব্বিশ মাস পরে গত ১৫ জুলাই মামলার রায়দানের কথা ছিল। কিন্তু মামলার রায় দান পিছিয়ে দিয়েছিলেন বিচারক। বৃহস্পতিবার মনুয়া এবং অজিতকে অনুপম হত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অনুপমকে খুনের অভিযোগে অজিতকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। আর মনুয়াকে হত্যার চক্রান্তের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়।  নিহত অনুপমের পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুরা মনুয়া এবং অজিতের ফাঁসির সাজার দাবিতে সরব হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দুই অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ দেন বিচারক। ফলে, আদালতের রায়ে  খুশি নন তাঁরা। অনুপমের মা কল্পনা সিংহ সাজা ঘোষণার পরে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'আমি প্রতারিত হয়েছি। আমি সঠিক বিচার পাইনি।' সম্ভবত মনুয়া এবং অজিতের ফাঁসির শাস্তির দাবিতে উচ্চ আদালতে আবেদন জানাবে অনুপমের পরিবার।