শুধু রাজ্য নয়, দেশের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে কোনও দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিরোধ ছিল না। প্রায় চার বছর পর দলে ফিরে এই কথাই বললেন মুকুল রায়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি করা যায় না। সেই কারণেই তিনি গেরুয়া শিবির ছেড়ে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন। তিনি আরও বলেন বাংলা আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবে। তাঁর নেতৃত্বের সামনের সারিতে থাকবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী দিনে তিনি দেশকে নেতৃত্ব দেবেন বলেও আশাবাদী মুকুল রায়। 

মুকুল রায় এদিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কোনও কোনও দিনই তৃণমূল কংগ্রেস ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কথা বললেননি। তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও মতোবিরোধ কোনওকালে ছিল না। দলে ফিরে পুরো সহকর্মী ও দলীয় কর্মীতদের সঙ্গে দেখা করে তাঁর খুবই ভালো লাগছে। মুকুল রায় আরও জানিয়েছে তাঁর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন বিজেপি ছেড়ে আবারও তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসবে। তবে কারা কারা ফিরবেন সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করে দেন। তবে এদিন স্পষ্ট হয়ে যায় রাজ্য বিজেপিতে ভাঙন অনিবার্য। 

মুকুল এদিন দলে ফেরার পরই তাঁর স্বাগত জানিয়েছিলেন দলের নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই ২০১৭ সালে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে মুকুল রায়কে যে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে তা জানিয়ে দেন। সূত্রের খবর মুকুল রায় অভিযোক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরে আসেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি বসে ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে। তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন তাঁর ছেলে শুভাংশু রায়ও। 

২০১৭ সালে দল বদল করে মুকুল রায় চলে গিয়েছিলেন বিজেপিতে। প্রায় ৪ বছর সেখানেই ছিলেন তিনি। বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিধায়কও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পর থেকেই দলের সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব বাড়তে থাকে মুকুল রায়ের। বিজেপির একের পর এক বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে দলবদলের জল্পনা ক্রমশই উস্কে দিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস ভবনে ঘর ওয়াপাসি হয় মুকুল রায়ের। এক প্রশ্ন ২০১৭ সালের আগে মুকুল রায়ের যে প্রভাব ছিল তৃণমূলে তা কী আগামী দিনে দেখতে পাবে তাঁর অনুগামী ও রাজ্যের মানুষ।