শুভেন্দু অধিকারী ও কনিষ্ক পণ্ডা ঘনিষ্ট দেবাশিস আচার্যর মৃত্যুঘিরে তৈরি হচ্ছে রহস্য। বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন দেবাশিস। সেই সময়ই একটা একটা ফোন আসে। হঠাৎই তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে যান। তারপর আর তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়ায় যায়নি। এদিন সকালে হাসপাতালে পাওয়া যায় দেবাশিসের নিথর দেহ। মাথায় রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। শরীরেও বেশ কয়েকটি ক্ষত চিহ্ন রয়েয়েছ। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

২০১৫ সালে ৪ জানুয়ারি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠানে হামলার চালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে দেবাশিস আচার্যের বিরুদ্ধে। পরবর্তীকালে তাঁকে অবশ্য বিজেপির বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতেও দেখা গিয়েছিল।ভোটের আগে শুভেন্দু র একাধিক কর্মসূচিতে দেবাশিস ছিলেন চেনা মুখ। শুভেন্দু ঘনিষ্ট কনিষ্ক পণ্ডার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর ছবি রয়েছে। কণিষ্ক পণ্ডা জানিয়েছেন দেবাশিস বিজেপির সক্রিয় কর্মী। তাঁকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে। দেবাশিসের খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তিরও দাবি জানান হয়েছে। তবে দেবাশিসের এই রহস্যমূত্যু ঘিরে রীতিমত জল্পনা শুরু হয়েছে তমলুকে। দেবাশিসের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই বিজেপির তমলুক সাংসগঠনিক জেলা নেতৃত্ব হাসপাতালে পৌঁছেছে। 

দেবাশিসের বন্ধুরা জানিয়েছেন, গতকাল রাতে তাঁরা নেতাজীনগর টোলপ্লাজা এলাকায় চা খেতে গিয়েছিলেন। একসঙ্গেই ছিলেন। সেই সময়ই দেবাশিসের একটা ফোন আসে। তাতেই তড়িঘড়ি দেবাশিস বেরিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ না ফেরার পর তাঁর খোঁজ খবর শুরু হয়। রাতেই একাধিকবার তাঁকে ফোন করা হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ ছিল।  অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেই বন্ধুরা বাড়ি ফিরে যায়। এদিন সকালে আবার খোঁজখবর শুরু হয়। তখনই বন্ধুরা জানতে পারেন হলদিচকের কাছে উদ্ধার করা হয়েছে দেবাশিসকে। সঞ্জয় দেবনাথ নামে এক পথচারী তাঁকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেছিল বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে খুন না দুর্ঘটনা -কী করাণে দেবাশিসের মৃত্যু হয়েছে - তা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি পুলিশ। 

এদিন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও হাসপাতালে আসেন দেবাশিসের মা। তিনি হাসপাতাল চত্ত্বেরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বারবার বলতে থাকেন তাঁর ছেলেকে কেন এভাবে চলে যেতে হল। তাঁর ছেলে মানুষের জন্য কাজ করেছিল। মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিল। একটা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিল। কিন্তু কেউ দেবাশিসকে চাকরি দেয়নি। উল্টে সকলেই দেবাশিসকে ব্যবহার করে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।  দেবাশিসের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা ময়না তদন্তের সময় সিসিটিভি চালু রাখা ও চিকিৎসক আর নার্সদের সম্পর্কে যাতে সঠিক তথ্য থাকে তারওদাবি তুলেছিলেন। 

SDPO তমলুক অতীশ বিশ্বাস এর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীর হাসপাতালে যান। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি এখনই মুখ খুলতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন সমস্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।