ফের মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার আল-কায়দা জঙ্গি। পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে আল-কায়দার ষড়যন্ত্র মামলায় জড়িত অভিযোগে রবিবার (১ নভেম্বর) ৩২ বছরের আবদুল মোমিন মন্ডলকে রানীনগর থানার নাজরানা গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ। মুর্শিদাবাদ জেলারই রায়পুর দারুর হুদা ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করত আবদুল মোমিন মন্ডল। তার আড়ালেই চলত আল-কায়দার সদস্য হিসাবে জঙ্গি কার্যকলাপ।

এনআইএ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদুল মোমিন মন্ডল আল-কায়দার সদস্যদের একাধিক ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠকে উপস্থিত ছিল। তার কাজ ছিল ভারতে আল কায়দা গোষ্ঠীর জন্য নতুন সদস্য খুঁজে বের করা এবং তাদের দলে টানার চেষ্টা করা। এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের কাজও করত সে। তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আবদুল মোমিন মন্ডলকে সোমবার মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তুলেছিল এনআইএ। তাকে নয়াদিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার এই গ্রেফতারির ঘটনা জানাজানি হতেই গোটা মুর্শিদাবাদ জেলাতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নিরপরাধ মাদ্রাসা শিক্ষকের পিছনে যে একজন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে, তা মানতে পারছেন না এলাকার অনেকেই। এই সত্যিটা মানতে পারছে না ধৃত আব্দুল মোমিন মন্ডলের পরিবার-ও। তার বাবা রেজাউল মন্ডল দাবি করেছেন, আব্দুল সম্পূর্ণ নিরাপরাধ। সে আর যাই হোক, কোনওভাবেই জঙ্গি নয়।

চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর এই মামলা দায়ের করেছিল এনআইএ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, ভারতের বিভিন্ন স্থানে ১০ জনেরও বেশি সদস্য নিয়ে আল-কায়দার জঙ্গি গোষ্ঠীর অনুপ্রেরণায় একটি জিহাদি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তারা দেশবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি এবং কেরল-সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে তাদের কার্যকলাপ ছড়িয়ে রয়েছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। মুর্শিদাবাদের ডোমকল মহাকুমার একাধিক জায়গা থেকেই ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলা সীমান্ত লাগোয়া মুর্শিদাবাদের স্পর্শ কাতর এলাকাগুলি এনআইএ-র নজরে ছিল। তারই ফলে এখন পরপর এই সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আল কায়দার এই গোষ্ঠীাটির সঙ্গে পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্টীগুলির যোগাযোগ ছিল বলেই সূত্রের খবর। এমনকী, পুলওয়ামা হামলার ঘটনায় জড়িত জঙ্গিদের সঙ্গেও এই ধৃত আল কায়দা জঙ্গিদের নিবিড় যোগাযোগ ছিল বলেই জানা গিয়েছে। দিন কয়েক আগে ডোমকল থেকে গ্রেফতার হয়েছিল বসন্তপুর কলেজের কম্পিউটার সায়েন্স পড়ুয়া নাজমুস শাকিব। তার সঙ্গে পুলওয়ামা কাণ্ডের আত্মঘাতী জঙ্গি জইশ-ই মহম্মদ সদস্য আদিল আহমেদ দারের যোগাযোগের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। পুলওয়ামা হামলার কিছুদিন আগেই একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আদিল দারের সঙ্গে পুলওয়ামা হামলার বিষয়ে  তার সঙ্গে ধৃত জঙ্গিদের কথোপকথন হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি কেরল থেকেও এই মামলায় তিনজন আল কায়দা জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, নয়াদিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অতর্কিতে 'লোন উলফ্' হামলা চালানোর ছক কষছিল তারা। কিন্তু, তার আগেই তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে এনআইএ। এক এক করে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা তদন্তকারীদের জালে ধরা পড়লেও আল-কায়দা'র এই মডিউলের মাথা এখনও অধরাই। তাকে খুঁজে বের করাই এখন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার মূল লক্ষ্য। মুর্শিদাবাদেরই কোথাও সে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।