রাজ্য জুড়ে বাড়ছে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা। একের পর এক আইন ভঙ্গের ছবি সামনে আসছে। এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এবার এই ইস্যুতেই তাঁর সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ধনকড়ের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কেন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভোট পরবর্তী বাংলা, তার কারণ জানতে চান মোদী। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কেও খোঁজ খবর নেন তিনি। 

এদিন ট্যুইট করে রাজ্যপাল বলেন রাজ্য জুড়ে লুঠতরাজ, মারধর ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা কখনই কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও গোটা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভয়ঙ্করভাবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে রাজ্যে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বিষয়টি পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে।

রাজ্যপাল ধনকড় বলেন পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা এখন লাগাম ছাড়া। কোনওভাবেই তা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। খুব দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কড়া হাতে পদক্ষেপ প্রয়োজন। 

এদিন ধনকড় আরও বলেন গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জাজনক এমন অনর্থক হিংসা, খুন, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বন্ধ হওয়া উচিত। এই অরাজকতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বাঙালিরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এবং তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, কেন গণতন্ত্রের উপরে এই হামলা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতি ইঙ্গিত উঠে আসছে। আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছেন।' 

প্রসঙ্গত,  ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে রক্ত ঝরছে বিজেপির কর্মীর। বিজেপির কার্যকর্তা বেলেঘাটার বাসিন্দা অভিজিৎ সরকার খুনের পাশাপাশি বারুইপুর সহ একাধিক জায়গায় খুন হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। এবং প্রতিবারই কাঠগড়ায় তৃণমূল।  রিপোর্ট তলব করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং এই বিষয়ে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছিল বিরোধীরা। এরপরেই টুইটে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যপাল।

অপরদিকে, রাজ্যে ক্রম বর্ধমান বেড়ে চলা হিংসা তান্ডবের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি শ্রী জেপি নাড্ডা এদিন রাজ্যে। ৪ তারিখ থেকে আগামী ২ দিন পশ্চিমবঙ্গ সফর করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কার্যকর্তা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হিংসার প্রতিবাদ করা হবে।