সিবিআই দফতরে হাজিরা দিলেন কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল এবং আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার। এ দিন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দফতরে যান রাজীব। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই হাজিরা দেওয়ার জন্য সিবিআই নোটিস পাঠিয়েছিল রাজীব কুমারকে। সেই নির্দেশ মেনেই হাজিরা দিলেন রাজীব। 

সারদা কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই রাজীবের সঙ্গে সিবিআই-এর লুকোচুরি শুরু হয়। গত ২৪ মে থেকে রাজীব- সিবিআই-এর মধ্যে কার্যত লুকোচুরি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত গত ৩০ মে ফের কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শর্ত স্বাপেক্ষে নতুন রক্ষাকবচ পান রাজীব কুমার। সেই নির্দেশ অনুযায়ী সিবিআই আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত রাজীবকে গ্রেফতার করতে পারবে না। তবে এই নির্দেশে রাজীবকে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছিল। রাজীবকে সিবিআই-এর কাছে পাসপোর্ট জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। একই সঙ্গে প্রতিদিন সিবিআই অফিসারের কাছে নিজের দেওয়া ঠিকানায় তাঁরা উপস্থিতিও নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। গ্রেফতার হতে হবে না এই নিশ্চয়তা পাওয়াতেই রাজীব সিবিআই-এর মুখোমুখি হলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া, কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকেও তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গত কয়েকদিন সারদা কাণ্ডের সময়ে বিধাননগর পুলিশের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষ ছাড়াও বেশ কয়েকজন তদন্তকারী অফিসারকে জেরা করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। বিধাননগর পুলিশের কাছ থেকে সারদা কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রচুর নথিও জমা পড়েছে সিবিআই-এর কাছে। অর্ণব ঘোষ-সহ বাকি অফিসারদের থেকে পাওয়া তথ্যই এবার রাজীবকে জেরায় অস্ত্র করতে পারেন সিবিআই গোয়েন্দারা। কারণ সেই সময়ে রাজীবের নেতৃত্বেই বাকি অফিসাররা সারদা তদন্ত চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ সিবিআই তদন্তকারীদের। 

বৃহস্পতিবার সিবিআই ফের নোটিশ পাঠায় রাজীব কুমারকে। তাঁকে শুক্রবার সকালে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মতোই রাজীব এ দিন সকালে হাজিরা দিলেন সিবিআই দফতরে। এর আগে শিলংয়েও রাজীব কুমারকে জেরা করেছিল সিবিআই। তবে সেবার রাজীব তদন্তে সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ করেছিলেন সিবিআই অফিসার। তার পরেই ফের রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই।