ড্রেস কোড মানা হয়নি। এর জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ যে শাস্তির বিধান দিল তাতে শিক্ষামহেল চরম লজ্জা ছড়িয়েছে। কারণ, যে সব ছাত্রী ড্রেস কোড মানেননি তাদের শরীরের নিম্নাংশের পোশাক খুলে নেওয়া হয়। এইভাবে তাদের ঘন্টার পর ঘণ্টা ক্লাস করতে বাধ্য করানো হয়। বোলপুরের এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা তৈরি করেছে। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবকরা। 

জানা গিয়েছে, সোমবার টপের সঙ্গে লেগিংস পরে কিছু ছাত্রী স্কুলে যায়। লেগিং পরায় নাকি ড্রেস-কোড লঙ্ঘন হয়েছে। এমনই বলা হয় ওই ছাত্রীদের। বিষয়টি প্রধানশিক্ষিকা পর্যন্ত গড়ায়। এরপর শিক্ষিকারা ওই ছাত্রীদের লেগিংস খুলে দিতে বলে। উপায়ান্ত না দেখে ছাত্রীরা লেগিংস খুলে শিক্ষিকাদের দিয়ে দেয়। স্কুল শেষ হলে লেগিংসগুলো ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়। কিছু ছাত্রী লেগিংস ফের পরে নিলেও কিছু ছাত্রী লেগিংস ছাড়াই বাড়ি চলে যায়। মেয়ের নিম্নাংশের পোশাক নেই দেখে অভিভাবকরা হতবাক হয়ে যান। জিঞ্জাসা করতেই অভিভাবকরা জানতে পারেন লেগিংস খুলে নেওয়ার কথা। এতেই ক্ষুব্ধ হন অভিভাবকরা। কিছু অভিভাবক এই বিষয়টি মেনে নিতে রাজি হননি। তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অর্ধনগ্ন করে রাখার অভিযোগ এনেছেন। 

সোমবার রাতেই বোলপুর থানায় ওই স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করানো হয়। অভিযোগে, মহিলাদের সম্মানহানি থেকে শুরু করে শ্লীলতাহানির মতো অভিযোগ রাখা হয়েছে। বোলপুর থানার হস্তক্ষেপে স্কুল কর্তৃপক্ষ এসে বিষয়টি মিটমাটের চেষ্টা করে। পুলিশের সামনেই অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা। কাদের উদ্যোগে এই ঘটনা হয়েছে সেই শিক্ষিকাদের খুঁজে বের করার আশ্বাসও দেন তিনি। যদিও, প্রধানশিক্ষিকার আশ্বাসে মোটেও খুশি নন অভিভাবকরা। তাঁরা অবিলম্বে প্রধান শিক্ষিকার পদত্যাগ দাবি করেছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। 

এই ঘটনায় বেশকিছু ছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে দাবি করেছেন অভিভাবকরা। ড্রেস কোড না মানলে ছাত্রীদের কেন বাড়ি না পাঠিয়ে লেগিংস খুলে নেওয়া হল তা নিয়ে সরব হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, স্কুল নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তারপরে এই ঘটনা। অনেক অভিভাবক ইতিমধ্যেই এই স্কুল থেকে মেয়েদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে চাইছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ সামান্য ক্ষমা চেয়ে যেভাবে চুপচাপ রয়েছে তাতে আরও ক্ষোভ বেড়েছে। অনেক অভিভাবকদের মত, যারা সঠিক শিক্ষা-ই দিতে পারেন না তারা আবার ছোট-ছোট মেয়েদের কীভাবে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করবে। অভিভাবকরা আপাতত স্কুলের সামনে বিক্ষোভ ও মেয়েদের স্কুলে না পাঠিয়ে কর্তৃপক্ষের উপরে চাপ তৈরি করে রাখতে চাইছেন।