যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিজেপি-তে যোগ দিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। এ দিন বিকেলেই দিল্লিতে বিজেপি-র  সদর দফতরে বিজেপি-তে যোগদান করেন শোভন। তাঁর সঙ্গে বিজেপি-তে যোগ দিলেন শোভনের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের উপস্থিতিতেই বিজেপি-তে যোগ দিলেন শোভন। দিল্লিতে এ দিন শোভনের যোগদানের সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। সাংবাদিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভনের হাতে বিজেপি-র সদস্যপদ তুলে দেওয়া হয়। 

শোভনের বিজেপি-তে যোগদান নিয়ে মুকুল বলেন, 'বাংলার রাজনীতিতে শোভন চট্টোপাধ্যায় একটা নাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পিছনে যাঁদের সবথেকে বেশি অবদান ছিল, শোভন চট্টোপাধ্যায় অন্যতম ছিলেন। আজকের পর কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি-র জয় নিশ্চিত। মমতা পুরভোটে লড়বেন কি না, সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত। আর বিধানসভা নির্বাচনে এর পর তৃণমূল বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে না।'

মঙ্গলবার রাতেই বৈশাখীকে নিয়ে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন শোভন। তার আগে ইস্তফা দিয়েছিলেন বিধানসভার ফিশারিজ স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যপদ থেকে। দিল্লিতে পৌঁছে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বিজেপি-র শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয় বলে খবর। এ দিন সকালে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের সবুজ সঙ্কেত পেতেই শোভনের বিজেপি-তে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। 

আগামী বছর কলকাতা পুরসভার নির্বাচন রয়েছে। শোভনকে মেয়র পদপ্রার্থী করেই বিজেপি পুরসভা দখলের লক্ষ্যে নামার পরিকল্পনা করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সাম্প্রতিককালে তৃণমূল ছেড়ে যাঁরা বিজেপি-তে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শোভনকে দলে টেনেই বিজেপি তৃণমূলকে সবথেকে বড় ধাক্কাটা দিল। শোভনকে ধরে রাখতে চেষ্টার কসুর করেনি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু দলের একসময়ের একনিষ্ঠ এবং মমতার অন্যতম আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত শোভনই এবার পুরভোটে তৃণমূলের কাছে সবথেকে বড় কাঁটা হতে চলেছেন।