নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সরকারি স্তরেও বিরোধিতা শুরু করার রাস্তায় হাঁটল রাজ্য। শুক্রবার নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনতে আগামী ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডাকা হচ্ছে। বিধানসভায় অধিবেশন ডাকার আগে সর্বদল বৈঠকও ডাকেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এর আগে করল সহ বেশ কয়েক রাজ্য কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেছে। 

 

কৃষি আইন নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিল তৃণমূল কংগ্রসে। রাজ্যসভায় বিল পাসের দিনই তুমুল প্রতিবাদ করেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়নসহ তৃণমূল বিধায়করা। তাঁরা বিলের প্রতিলিপি ছিঁড়ে ফেলে বলেও অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লিতে যে গত ৪৪ দিনম ধরে যে কৃষক আন্দোলন চলছে তাতে পূর্ণমাত্রায় সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। তিনি আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে দুবার টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। দুবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা দিল্লির সিংহু বর্ডারে আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। কৃষক আইনের প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তাঁর সিঙ্গুর আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন। কেন্দ্রের কৃষি আইনকে তিনি কালো আইন বলেও ব্যাখ্যা করেছেন। 

এতদিন কেন্দ্রের আনা নতুন তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতার করেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। এবার বিধানসভায় প্রস্তাব এনে তাতে সরকারি শিলমহর দিতে চাইছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও কৃষি আইনের প্রতিবাদে এরাজ্যে এখনও পর্যন্ত ছোটখাটো বিক্ষোভ হলেও তেমন বৃহত্তর আন্দোলনে নামেনি কৃষকরা। কিন্তু সামনেই ভোট। আর রাজ্যের কৃষকদের মন পেতে ও নিজের কেন্দ্র বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলছে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে এরাজ্যের বাম-কংগ্রেস নয়, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও প্রথম প্রতিপক্ষ বলে নিজেদের দাবি করছে গেরুয়া শিরিব। বিজেপির আচরণেও স্পষ্ট হয়ে গেছে আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই তাদের মূল টক্কর বাধবে।