ডিএ মামলায় বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। এক বছরের মধ্যে সমস্ত বকেয়া মহার্ঘভাতা মেটানোর নির্দেশ দিল স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বা স্যাট। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের হারে রাজ্য সরকারি কর্মীরাও ডিএ পাবেন কি না, তা রাজ্যকে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বভারতীয় ক্রেতা মূল্য সূচকের বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেন্দ্র যেভাবে কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা দেয়, সেই একই পদ্ধতি মেনে রাজ্যকেও মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণেরও সুপারিশ করেছে স্যাট। তিন মাসের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর করার নির্দেশও দিয়েছে স্যাট। 

ডিএ মামলার রায় ঘোষণা করে এই নির্দেশই দিল স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বা স্যাট। এগারো মাস ধরে মামলার শুনানি চলার পরে এই রায় দিল স্যাট। যদিও, এই রায়ের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার কলকাতা হাইকোর্টে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ আদালতের নির্দেশ মানতে গেলে রাজ্যের ঘাড়ে বিপুল পরিমাণ আর্থিক বোঝা চাপবে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার বছরে বছরে দু' বার করে কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করে। 

বিচারপতি রঞ্জিত বাগ এবং বিচারক সুবেশ দাস এ দিন এই রায় দিয়েছেন। সরকারি কর্মচারীদের আইনজীবী আমজাদ আলি বলেন, 'সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়া কারণ দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির কারণে মূল বেতন ঘাটতি হয়ে যায়। তাই অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইন্ডেক্স মেনে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয় মূল বেতনের সঙ্গে। সারা দেশে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত রাজ্য এই নিয়ম মেনে ডিএ দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু বর্তমানে খেয়ালখুশি মতো মহার্ঘভাতা দেওয়া হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ডিএ দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম ঘোষণা করতে হবে রাজ্যকে।' 

২০১৭ সালে প্রথম সরকারি কর্মীদের একটি সংগঠন এই মামলা দায়ের করে। প্রথমে মামলা গ্রহণ করতে না চেয়ে স্যাট জানিয়েছিল, ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়। এর বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। স্যাটের ওই বক্তব্য খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট জানায়, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের অধিকার। মূল মামলাটি স্যাটেই ফেরায় কলকাতা হাইকোর্ট। এই নির্দেশের বিরোধিতায় ফের হাইকোর্টে আবেদন করেছিল রাজ্য সরকার। যদিও, সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। 

ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। এমন কী, রাজ্য সরকারের যে কর্মীরা অন্যান্য রাজ্যে কর্মরত রয়েছেন, তাঁরাও কেন্দ্রীয় হারেই ডিএ পান। তাই বঞ্চনার অভিযোগে  আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন।