বিজেপিতে যোগদানের জোর গুঞ্জনের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যপদ ও দলের অন্যান্য সকল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর ) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কাছে তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বুধবারই, নন্দিগ্রামের বিধায়কের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূলের এই 'সদ্য প্রাক্তন' নেতা।

আগামী ১৯ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। ওই দিনই পূর্ব মেদিনীপুরে, নিজের গড়েই অমিত শাহর উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেবেন এই দাপুটে 'জননেতা', এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এদিন সকালেই বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, বিজেপি-তে যোগদানের বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। তবে তাঁর জন্য গেরুয়া শিবিরের দরজা যে খোলা থাকবে তা জানাতে ভোলেননি তিনি। শুভেন্দুর মতো 'লড়াকু নেতা' দরকার বলেও মন্তব্য করেছেন।  

শেষ পর্যন্ত যেখানেই যান না কেন, শুভেন্দু অধিকারীর তৃণমূল ত্যাগ ২০২১ সালের  নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। শুধু দুই মেদিনীপুরেই নয়, বেশ কয়েকটি জেলায় তাঁর নিজস্ব অনুগামীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাঁর সরে যাওয়া তে তৃণমূলে বড় ভাঙন ধরতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। বুধবার বিধায়ক পদ ছাড়াই কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাঁকে পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল সংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া ওইদিনই বিধানসভায় এক বাম বিধায়ককে তিনি ১০ জন তৃণমূল বিধায়ক ভাঙিয়ে নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।