সলিসিটর জেনেরাল তুষার মেহতার সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। যদিও তাঁদের মধ্যে কোনও বৈঠক হয়নি বলে দাবি করেছে দু'পক্ষই। কিন্তু, তুষার মেহতাকে নিয়ে পিছু হটতে নারাজ তৃণমূল। তাঁর অপসারণের দাবিতে আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আর এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি দিলেন তাঁরা। আজ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে চিঠি তুলে দেন তৃণমূল সাংসদ শুখেন্দু শেখর রায় ও মহুয়া মৈত্র। 

আরও পড়ুন- সেন্ট্রাল অ্য়াভিনিউতে BJP-র মিছিল আটকাতেই ধুন্ধুমার, আটক অগ্নিমিত্রা সহ বিধায়ক-নেতারা

১ জুলাইয়ের ঘটনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেই সোজা ১০ নম্বর আকবর রোডে সলিসিটর জেনারেলের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট ছিলেন। তারপরই তাঁকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে চিঠিতে তৃণমূলের বক্তব্য, নারদ ও সারদা কেলেঙ্কারি মামলায় নাম রয়েছে শুভেন্দুর। আর সিবিআইয়ের হয়ে ওই দুটি মামলা লড়ছেন তুষার মেহতা। তাই তৃণমূলের দাবি, প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যেই এমন বৈঠকের আয়োজন হয়েছিল বলে আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য তুষার মেহতাকে সরানো প্রয়োজন।

 

 

যদিও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর দেখা করার কোনও প্রশ্নই আসে না বলে দাবি করেছেন তুষার মেহতা। তবে শুভেন্দু অধিকারী যে বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটে নাগাদ তাঁর বাসভবন তথা কার্যালয়ে এসেছিলেন, সেই কথা মেনে নিয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে শুভেন্দুর শেষ পর্যন্ত দেখা হয়নি এবং এক কাপ চা খেয়েই সেখান থেকে বিদায় নিয়েছিলেন শুভেন্দু। 

আরও পড়ুন- আজই সম্ভবত তৃণমূলে প্রণব পুত্র, অভিজিৎকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

তুষার মেহেতার দাবি, শুভেন্দু যখন এসেছিলেন, সেই সময় তিনি নিজের কক্ষে এক পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর কর্মচারীরা শুভেন্দুকে তাঁর কার্যালয়ের ওয়েটিং রুমে বসান এবং তাঁকে এক কাপ চা দিয়েছিলেন। বৈঠকের পর আবার তুষার মেহতা জানতে পেরেছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব আসবেন কোনও জরুরি কাজ নিয়ে। তাই শুভেন্দু অধিকারির সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না বলে কর্মীদের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছিলেন। 

এ প্রসঙ্গে চিঠিতে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, সলিসিটর জেনারেল বলছেন যে না জানিয়ে শুভেন্দু এসেছিলেন বলে তিনি দেখা করতে পারেননি। তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু, আমাদের প্রশ্ন, যদি শুভেন্দু আগে থেকে জানাতেন তাহলে কি তিনি একজন অভিযুক্তর সঙ্গে দেখা করতেন? উনি কি সব নিয়মের কথা ভুলে গেছেন?

আরও পড়ুন- লক্ষ্য ২০২৪, লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতার পদ থেকে সরছেন অধীর চৌধুরী, জল্পনা তুঙ্গে

তৃণমূলের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী সলিসিটর জেনারেলের বাড়িতে ৩০ মিনিট উপস্থিত ছিলেন। যদি বৈঠক নাই হয় তাহলে তার প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করুন। 

চিঠি দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া বলেন, "আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি জমা দিয়েছি। সলিসিটর জেনারেল যে আচরণ করেছেন এর জন্য তাঁর দ্রুত পদত্যাগ দাবি করছি।"

শুখেন্দু শেখর রায় বলেন, "শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা না করতে পারার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল। শুভেন্দুকে ওই অফিসে ঢোকার অনুমতি কে দিল? সলিসিটর জেনারেল বার কাউন্সিলের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। এটা প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে আমরা ধরে নিচ্ছি।"