হালিশহরের পর এবার মুকুল রায়ের খাসতালুক কাঁচরাপাড়া পুরসভাও পুনর্দখল করল তৃণমূল। এ দিনই তৃণমূলে ফিরেছেন বিজেপি-তে যাওয়া ৯ কাউন্সিলর। যার ফলে ফের ওই পুরসভা দখল করল শাসক দল। 

এর পাশাপাশি বিজেপি-কে আরও একটি ধাক্কা দিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদও ফের পুনর্দখল করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি ছেড়ে শাসক দলে ফিরেছেন জেলা পরিষদের তিন সদস্য। ফলে হাতছাড়া হওয়া জেলা পরিষদে ফের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল শাসক দল। ওই জেলা পরিষদে মোট আসন ১৮টি। তার মধ্যে তৃণমূলের হাতে রয়েছে ১১টি আসন। আর বিজেপি-র হাতে রয়েছে ৭ জন। তবে জেলা পরিষদের সভাপতি থাকছেন বিজেপি-তেই। 

লোকসভা নির্বাচনের পরেই হালিশহর এবং নৈহাটি পুরসভার সঙ্গে কাঁচরাপাড়াও দখল করেছিল বিজেপি। বীজপুরের বিধায়ক এবং মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই তিনটি পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলরই বিজেপি-তে যোগ দেন। 

কাঁচরাপাড়া পুরসভায় মোট ২৪টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে তৃণমূলের হাতে ছিল বাইশজন কাউন্সিলর। এই বাইশজনের মধ্যে সতেরোজনই বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে পাঁচ জন পুরপ্রতিনিধি এক সপ্তাহ আগেই তৃণমূলে ফিরেছিলেন। এ দিন তৃণমূল ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আরও ৯ জন কাউন্সিলর তৃণমূলে ফিরলেন। এর ফলে সবমিলিয়ে তৃণমূলের হাতে কাঁচরাপাড়া পুরসভায় মোট ১৯ জন কাউন্সিলর থাকল। 

আরও পড়ুন- সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস নেই মমতার, সরাসরি চ্যালেঞ্জ মুকুলের

এ দিন কাউন্সিলরদের ফের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেই মুকুল রায়কে তীব্র আক্রমণ করেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভোট মেটার পরেই নানা ভাবে ভয় দেখিয়ে ওই কাউন্সিলরদের বিজেপি-তে যোগ দিতে বাধ্য  করা হয়েছিল। মুকুলকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, 'কিছু নেতার উদ্দেশ্যই হচ্ছে কীভাবে মিথ্যে কথা বলে দিল্লির কাছে নম্বর বাড়াব। সংবাদমাধ্যম তাঁকে বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য বলেছিল। কিন্তু এই চাণক্য মেড ইন চায়না।' অভিষেকের দাবি, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুরসভা, পঞ্চায়েত থেকে যাঁরা বিজেপি গিয়েছেন, এমন কী তৃণমূলের যে বিধায়করা দলবদল করেছিলেন, তাঁরাও ফিরতে চাইছেন। কাদের দল ফিরিয়ে নেবে, সেই সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অভিষেক।