Asianet News BanglaAsianet News Bangla

ঘুমপাড়ানি গুলিতেই হল কাজ, কুলতলিতে বাঘকে খাঁচায় বন্দি করল বনদফতর

কুলতলিতে অবশেষে বাঘকে বন্দি করল বন দফতর।  এদিন ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়ার পর বাঘটিকে খাঁচায় ঢোকানো সম্ভব হয়েছে।

 

WB Forest Department Captured the tiger in a cage at Kultali RTB
Author
Kolkata, First Published Dec 28, 2021, 10:15 AM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

কুলতলিতে (Kultali) অবশেষে ৬ দিন পর বাঘকে (Tiger) বন্দি করতে সফল হল বন দফতর (WB Forest Department)। টানা কয়েকদিনের চেষ্টার পরেই পরেই অবশেষে উদ্বেগ কমল। বন দফতর জানিয়েছে, প্রথমে কয়েকদিন ধরে দুটি খাঁচা পাতানো হলেও ওই বাঘ খাঁচায় ঢোকেনি। হয়তো প্রথমে বাঘটি খাঁচায় আগে কখনও ঢুকেছিল, তাই ফাদ বুঝে গিয়েছে। তবে এদিন ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়ার পর বাঘটিকে খাঁচায় ঢোকানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে চিকিৎসকও। খাঁচা বন্দি অবস্থাতেই বাঘটিকে বাইরে বার করা হবে। এরপর বোটে তুলে নিয়ে বাঘটির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন চিকিৎসক। তারপর বাঘটিকে অন্যত্র ছেড়ে দিয়ে আসা হবে।

WB Forest Department Captured the tiger in a cage at Kultali RTB

 বৃহস্পতিবার থেকেই কুলতলির এলাকায় মেলে বাঘের পায়ের ছাপ। তারপর দীর্ঘ ৬ দিনের চেষ্টা এদিন বাঘ ধরা সম্ভব হয়েছে। জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনে এই বাঘের জেরে গলা শুকিয়ে এসেছিল কুলতলিবাসীর। কারণ লোকালয়ের খুব কাছে চলে এসেছিল বাঘটি। শোনা যাচ্ছিল বাঘটির গর্জনও। পিয়ালি নদীর চর সংলগ্ন এলাকায় রীতিমত আতঙ্ক ছড়ায়। শুক্রবার থেকে সক্রিয়ভাবে বাঘের খোঁজে নেমে পড়ে বন দফতর। কিন্তু প্রথমে কয়েকদিন ধরে বাঘটিকে পটাকা ফাটিয়ে, ফাঁদ পেতেও বাগে আনতে পারছিল না বন দফতর। যার ফলে আতঙ্কে একদিন কার্যত ঘুম উড়ে গিয়েছিল এলাকাবাসীর। উল্লেখ্য, রবিবার এই বাঘটিকে ধরতে গিয়েই এক কুলতলির বাসিন্দা আহত হন। তবে বাঘের হামলায় নয়, পড়ে গিয়েই জখম হন তিনি। মূলত তাঁকে বাঘ ধরার জন্যই ডেকে পাঠিয়েছিল বন দফতর।

WB Forest Department Captured the tiger in a cage at Kultali RTB

 মূলত ৬ দিন আগে কুলতলির ডোঙ্গাজোড়া গ্রামের শেখ পাড়াতে গ্রাম লাগোয়া ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে ঢুকে পড়েছিল ওই রয়েল বেঙ্গল টাইগার। গ্রামবাসীরা নদীতে মাছ কাঁকড়া ধরতে যাওয়ার সময় বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছিলেন, তারাই বনদপ্তরকে খবর দিলে বন দফতরের কুলতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এলাকায় বাঘের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। সেই থেকেই গোটা এলাকাটিকে নাইলনের জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল। বাঘ ধরতে পাতা হয়েছিল দু-দুটি খাঁচা। গত কয়েকদিন ধরে ছাগলের টপ সেই খাঁচাতে দেওয়া হলেও ধরা দেয়নি বাঘ। অবশেষে মঙ্গলবার বেলা পৌনে দশটা নাগাদ বাক্যটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়তে সমর্থ হন বনকর্মীরা। তার আগে দমকলের কর্মীরা জল ছিটিয়ে বাঘটির অবস্থান জানার চেষ্টা করেছিলেন। এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বাজি পটকা ফাটানো হয়। শেষ পর্যন্ত জঙ্গলের মধ্যে তৈরি করা মাচা থেকে বাঘটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়েন বনকর্মীরা।

ঘুমপাড়ানি গুলি খেয়ে বাঘটি সামান্য নিস্তেজ হতেই বনকর্মীরা বাঘের কাছে গিয়ে পর পর আরও দুটি ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়ে। তিনটি গুলি খেয়ে অবশেষে নিস্তেজ হয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তড়িঘড়ি বাঘটিকে খাঁচা বন্দি করে নৌকায় তুলে নিয়ে বনকর্মীরা ঝড়খালির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘটিকে দেখে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। বাঘটি সুস্থ হলে পুনরায় তাকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বন আধিকারিকরা।মূলত পিয়ালি নদী লাগোয়া নিকটবর্তী লোকালয়ের অনেকেরই রোজগার নির্ভর এই জঙ্গল ঘিরেই। এদিকে টানা কয়েকদিন বাঘের আতঙ্কে তটস্থ হয়ে সেই সব মানুষ জঙ্গলের ত্রিসীমানায় যেতে পারেনি। থমকে গিয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া সেই মানুষগুলিরও রুজি-রুটি। তবে মঙ্গলবার অবশেষে তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে।

 

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios