পরিবারের চারজনের ভয়াবহ মৃত্যু। বাড়ির চার জন মা-বাবা-বোন-দিদাকে খুন করে মাটির নিচে পুতে রাখার অভিযোগ। এই অভিযোগে পরিবারের একমাত্র ছেলে আসিফ মোহাম্মদ নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের কথা স্বীকারও করেছে সে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের কালিয়াচক থানার পুরাতন ১৬ মাইল এলাকায়।  তদন্তে পুলিশ। ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য।

 

আরও পড়ুন, নিউটাউন এনকাউন্টারকাণ্ডে নয়া মোড়, রহস্যময় ২ যুবতীর উপস্থিতি, ফ্ল্য়াট থেকে মিলল কন্ডোম 

 

 

এলাকাবাসীর দাবি, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ওই পরিবারের চার সদস্যকে তাঁরা দেখতে পাচ্ছিলেন না। ওই যুবক সেই সময় বাড়িতেই ছিল। তাঁর কাছ থেকে অসংখ্যবার মা-বাবা-বোন এবং দিদা 'কেমন আছে, কী খবর'-খোঁজ নেন প্রতিবেশিরা। এদিকে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে তখন কেউ বাইরে ঘুরতেও তেমন যাচ্ছেন না। তাহলে একই পরিবারের ৪ জন্য গেল কোথায়, প্রশ্ন উঠতে থাকে এলাকায়। এরপর শুক্রবার এক আত্মীয় ওই বাড়িতে আসেন। বাড়ির সকলের খোঁজ নেন। আর এরপরে ঘটে যায় ঘটনার মোড়। পরিবারের মা-বাবা-বোন-দিদার খবর নিতে গেলেই ফোঁস করে ওঠে  আসিফ মোহাম্মদ। অভিযোগ, ঘটনা যাতে প্রকাশ্যে না আসে, ওই আত্মীয়কেও খুনের চেষ্টা করে যুবক। এরপরেই আর দেরি করেননি, পুলিশের কাছে খবর দেন ওই আত্মীয়। ঘটনাস্থলে পৌছয় পুলিশ। অভিযুক্ত যুবককে আটক করে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। 

আরও পড়ুন, আগামী ২- ৩ ঘন্টার মধ্য়ে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বর্ষণ, ভাসতে চলেছে বাংলার এই জেলাগুলি  

 


স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছে , পরিবারের একমাত্র ছেলে আসিফ মোহাম্মদের বয়েস মাত্র ১৭ বছর। ও তো বাচ্চা। পড়াশোনাই করে। ওর সঙ্গে চলাফেরা কারওই ছিল না। খাওয়া-দাওয়া করত অনলাইনে অর্ডার করে। কোথা থেকে আসত ,কেউ জানে না। কাউকে বাড়ি ও ঢুকতে দিত না। আমরা দেখেছি বাড়ির চারিপাশে অসংখ্য সিসিটিভি লাগানো। চার-পাঁচটা ল্যাপটপ পাওয়া গিয়েছে বলেও জানতে পেরেছি। একা ওইটুকু ছেলে কীকরে বাড়িতে থাকছে এটা নিয়ে সন্দেহ হত। সন্দেহ করে কি করব, যাওয়ার উপায় ছিল না। গ্রামের লোকতো দেখতই।

আরও পড়ুন, ' হাতির পিঠ থেকে দু-তিনটে পিঁপড়ে নামলে যায় আসে না', মুকুল ইস্যুতে বিস্ফোরক সায়ন্তন 

 পুলিশ সূত্রে খবর, আসিফ স্বীকার করে জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সে তাঁর মা-বাবা-বোন এবং দিদাকে খুন করেছে। প্রমাণ মুছে দিতে বাড়ির মাটির তলায় পুঁতে দিয়েছে সে। তবে এখনও দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌছলে তাঁর উপস্থিতিতেই শুরু হবে মাটি খোঁড়ার কাজ। তবে কী কারণে এত ভয়াবহ নৃশংস ঘটনা ঘটাল পরিবারের একমাত্র ছেলে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।