
রোজগার তো করছেন, টাকা হাতেও আসছে কিন্তু পকেটে থাকছে না। মাস যেতে না যেতেই সব খরচ হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ভাবেন হয়তো খরচ বেশি হচ্ছে। কিন্তু বাস্তু মতে এর পেছনে আরেকটা বড় কারণ আছে। আর সেটা হল আপনার লক্ষ্মীর ভাঁড় বা টাকা-পয়সা রাখার জায়গা।
বাস্তু আর জ্যোতিষ শাস্ত্র বলে, টাকা রাখার জায়গা ঠিক না হলে লক্ষ্মী ঘরে বেশিক্ষণ থাকেন না। তিনি আসেন ঠিকই, কিন্তু আবার জলের মতো বেরিয়েও যান। তাই টাকা আটকাতে গেলে সবার আগে ভাঁড়ের দিকটা ঠিক করতে হবে।
শাস্ত্র মতে টাকা রাখার সবচেয়ে শুভ দিক হল ঘরের উত্তর দিক। কারণ এই দিকের অধিপতি হলেন ধনের দেবতা কুবের। আপনার আলমারি বা লকারটা ঘরের উত্তর দিকে রাখুন। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন, লকার খোলার মুখটা যেন দক্ষিণ দিকে থাকে। মানে আপনি যখন টাকা বের করবেন তখন আপনার মুখ থাকবে উত্তর দিকে। এইভাবে রাখলে একদিকে যেমন টাকা আসার রাস্তা খুলবে, তেমনই যে টাকা আসবে সেটা ঘরেও থেকে যাবে।
এর উল্টোটা হল দক্ষিণ দিক। বাস্তু মতে দক্ষিণ দিককে যমের দিক বলা হয়। তাই ভুলেও এই দিকে টাকার ভাঁড় রাখবেন না। দক্ষিণে রাখলে খরচ বাড়ে, সঞ্চয় হয় না আর অকারণে টাকা নষ্ট হয়।
শুধু দিক ঠিক করলেই হবে না, আরও দুটো জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, লক্ষ্মীর ভাঁড় কখনো একদম খালি রাখবেন না। ভাঁড়ে সবসময় কিছু কয়েন বা ১০-২০ টাকার নোট রেখে দিন। খালি ভাঁড় দেখলে মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন। দ্বিতীয়ত, যেখানে টাকা রাখবেন সেই জায়গাটা সবসময় পরিষ্কার রাখুন। আশেপাশে জঞ্জাল বা পুরনো কাগজ জমতে দেবেন না। আর সম্ভব হলে লকারের সামনে আয়না রাখবেন না। বলা হয় আয়নার সামনে টাকা থাকলে তা দ্বিগুণ খরচ হয়ে যায়।
টাকা আরও আটকাতে চাইলে একটা ছোট্ট টোটকা করতে পারেন। প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর দিন। এই দিন একটা হলুদ কাপড়ে ৭টা গোটা কড়ি আর ১ টাকার কয়েন বেঁধে ভাঁড়ে রেখে দিন। আর রোজ সকালে ঘর মোছার জলে এক চিমটি নুন মিশিয়ে নিন। এতে ঘরের নেগেটিভ এনার্জি কাটে আর টাকা ঘরে বাঁধা থাকে।
টাকা রোজগার করা কঠিন, কিন্তু তাকে ধরে রাখা আরও কঠিন। শুধু পরিশ্রম নয়, এই ছোট ছোট নিয়মগুলো মানলেই দেখবেন সংসারে অভাব অনেকটা কমে যাবে আর সঞ্চয়ও বাড়বে।
আজই একবার দেখুন তো আপনার লক্ষ্মীর ভাঁড় কোন দিকে আছে। নিয়ম মেনে উত্তর দিকে সরিয়ে রাখুন।