
Vastu Tips: ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে আসছি, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় পেছন থেকে ডাকতে নেই। বিশেষ করে যখন কেউ পরীক্ষা দিতে, ইন্টারভিউ দিতে, নতুন চাকরিতে জয়েন করতে বা কোনো শুভ কাজে বেরোচ্ছে, তখন পেছন থেকে ডাক পড়লে বড়রা রেগে যান। বলেন - "অযাত্রা হয়ে গেল"। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, সত্যিই কি এতে যাত্রা অশুভ হয়? নাকি এটা নিছকই একটা সংস্কার?
জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, এর পেছনে কোনো গ্রহের কুপ্রভাব নেই, কিন্তু এর পেছনে মনস্তত্ত্ব ও শক্তি বিজ্ঞানের গভীর যোগ আছে।
১. একাগ্রতা ও সংকল্প ভঙ্গের তত্ত্ব: জ্যোতিষ মতে, কোনো যাত্রা শুরু করার সময় মানুষের মন, শরীর ও সংকল্প একই দিকে স্থির থাকে। আপনি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বেরোচ্ছেন। সেই মুহূর্তে পেছন থেকে হঠাৎ ডাকলে আপনার সেই একাগ্রতা বা ফোকাস ভেঙে যায়। মন বিক্ষিপ্ত হলে কাজে ভুল হওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজ ফেলে যাওয়া বা পথে বাধা আসার সম্ভাবনা বাড়ে। এই বাধাকেই শাস্ত্রে 'যাত্রা ভঙ্গ' বলা হয়েছে।
২. শক্তির উল্টো প্রবাহ: বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, আমাদের ঘরের প্রধান দরজা হলো পজিটিভ এনার্জির প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ। যখন আপনি শুভ চিন্তা নিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছেন, তখন আপনার শরীর থেকে একটি শুভ শক্তি সামনের দিকে প্রবাহিত হয়। পেছন ফিরে তাকালে সেই শক্তির গতি উল্টো দিকে ফিরে যায়, এতে যাত্রার শুভ ফল নষ্ট হয় বলে মনে করা হয়।
৩. যাত্রা-নক্ষত্র বিচার: প্রাচীন জ্যোতিষ গ্রন্থে 'যাত্রা' নিয়ে আলাদা অধ্যায় আছে। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, যাত্রা শুরু করে পেছন ফিরে তাকানো বা ঘরে ফিরে আসা অশুভ। এতে যাত্রা ভঙ্গ দোষ লাগে। তাই একবার বেরিয়ে গেলে পেছন ফিরতে নেই।
ভুল করে ডেকে ফেললে কী করবেন? সহজ প্রতিকার
ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের শাস্ত্রেই এর সহজ প্রতিকার বলা আছে।
যদি ভুলবশত পেছন থেকে ডেকে ফেলেন, তাহলে যিনি যাচ্ছেন তিনি সঙ্গে সঙ্গে থেমে যাবেন। একটু বসে এক ঢোক জল খেয়ে নেবেন, বা এক চিমটে দই-চিনি মুখে দিয়ে নিজের ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করবেন। তারপর আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করবেন। বলা হয়, এতে অযাত্রা দোষ কেটে যায় এবং মন আবার শান্ত ও স্থির হয়ে শুভ কাজের জন্য প্রস্তুত হয়।
আসলে এর পেছনে একটি দারুণ ব্যবহারিক যুক্তিও আছে। তাড়াহুড়োয় বেরোনোর সময় পেছন থেকে ডাকলে হাত থেকে জিনিস পড়ে যেতে পারে, মনোযোগ নষ্ট হয়ে রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বড়রা সাবধানতার জন্যই এই নিয়মটি তৈরি করেছিলেন। তাই কুসংস্কার ভেবে উড়িয়ে না দিয়ে, একটু সচেতন থাকাই ভালো।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।