
৫০ হাজারের চেক সই করে দিলে। ২ দিন পর ব্যাংক থেকে ফোন এলো "স্যার, সই মিলছে না"। আবার ব্যাংকে দৌড়, আবার সই। ব্যবসার ডিলটা হাতছাড়া হয়ে গেল। তখন মনে হয় "আমার কপালটাই খারাপ"। জ্যোতিষী বলছেন কপাল না, দোষটা খাতার ওই এক ইঞ্চি জায়গার। তোমার সই-ই ঠিক করছে টাকা তোমার কাছে থাকবে নাকি গলগল করে বেরিয়ে যাবে।
প্রথম ভুল হলো সই কেটে যাওয়া বা মাঝে ফাঁক রাখা। অনেকে নাম লেখার সময় কলম তুলে নেয়, অক্ষরগুলো আলাদা আলাদা হয়ে যায়। জ্যোতিষ মতে এটা "অর্থের ছিদ্র"। টাকা আসবে ঠিকই কিন্তু হাতে থাকবে না। EMI, ডাক্তারের বিল, ঝগড়া - খরচ লেগেই থাকবে। সমাধান সোজা, এক টানে সই করো। কলম না তুলে নামটা আঁটোসাঁটো করে লেখো, যেন ফাঁক না থাকে।
দ্বিতীয় ভুল হলো সই ছোট করে এক কোণায় করে নিচে বিশাল ফাঁকা জায়গা রাখা। খাতার নিচে ২-৩ ইঞ্চি ফাঁকা থাকলে শাস্ত্র মতে ওটাকে বলে "অর্থের গর্ত"। তোমার সঞ্চয়ের নিচেই গর্ত, তাই যতই রোজগার করো জমবে না। এর সমাধান হলো সই করার পর নিচে একটা সোজা লাইন টেনে দেওয়া। এটাকে বলে লক্ষ্মীর সাপোর্ট। আর সইটা খাতার মাঝামাঝি, মোটামুটি ২ ইঞ্চি জায়গা নিয়ে করো।
তৃতীয় ভুল হলো শুধু আদ্যাক্ষর দিয়ে সই করা। "R.K." বা "S.M." লিখে ছেড়ে দেওয়া। জ্যোতিষ মতে আদ্যাক্ষর মানে অসম্পূর্ণতা। তোমার কাজ, টাকা, সম্মান সব অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। প্রমোশন আটকাবে, ডিল কনফার্ম হবে না। তাই সই-এ পুরো পদবী রাখো। "Rahul Kumar" হলে "Rahul K" বা পুরো "Rahul" লেখো। সম্পূর্ণ নামের সই মানেই সম্পূর্ণ ফল।
চতুর্থ ভুল হলো সইয়ের শেষটা নিচের দিকে টেনে দেওয়া। অনেকে অভ্যাসবশত শেষ অক্ষরটা নামিয়ে দেয়। জ্যোতিষে এটাকে বলে "পতনের সই"। মান-সম্মান, টাকা, কনফিডেন্স সব নিচের দিকে নামবে। ডিপ্রেশন আর লোকসান বাড়বে। তাই সইয়ের শেষ অক্ষরটা যেন উপরের দিকে ওঠে। L এর ডান্ডা, H এর পা - যেন আকাশের দিকে যায়। ওঠা মানেই উন্নতি।
পঞ্চম আর সবচেয়ে বড় ভুল হলো লাল কালিতে সই করা। অনেকে শখ করে লাল পেন দিয়ে চেক সই করে। ব্যাংক তো অ্যাকসেপ্ট করেই না, প্লাস জ্যোতিষ মতে লাল কালি মঙ্গলের রাগ ডাকে। রাগারাগি, মামলা, অর্থদণ্ডের যোগ আসে। সবসময় নীল বা কালো বলপয়েন্ট ব্যবহার করো। ব্যাংকের নিয়মও ওটাই, শাস্ত্রের নিয়মও ওটাই।
এবার বলি শুভ সই কেমন হবে। সইয়ের সাইজ মাঝারি রাখো। খুব ছোট সই মানে হীনমন্যতা আর খুব বড় সই মানে অপচয়। A4 খাতার মোটামুটি ২ ইঞ্চি জায়গা পারফেক্ট। সইয়ের নিচে একটা সোজা দাগ টানবে, এটা টাকা আটকাবে। আর সইটা যেন ডান দিকে বা উপরের দিকে যায়। বাঁ দিকে বা নিচের দিকে গেলে ব্যাকওয়ার্ড মোশন হয়, উন্নতি আটকায়।
একটা কথা মাথায় রাখবে। সই বদলানো যায়, কিন্তু ব্যাংক, প্যান, আধারে ইনফর্ম না করে বদলালে চেক বাউন্স হবেই। তাই নতুন সই ৩ মাস প্র্যাকটিস করো। তারপর ব্যাংকে গিয়ে Signature Change Form জমা দাও। বিজ্ঞান বলে সই বদলালে ভাগ্য বদলায় না, কিন্তু সাইকোলজি বলে নিয়ম মেনে সই করলে মন কনফিডেন্ট হয়। আর কনফিডেন্ট লোকই টাকা ধরে রাখতে পারে।