ভারতের বাজারে এখন এমন অনেক ইলেকট্রিক স্কুটার রয়েছে যেগুলোর সিটের নিচে প্রচুর জায়গা। বাজার করার ব্যাগ থেকে শুরু করে হেলমেট—সব অনায়াসেই রাখা যায়। চলুন দেখে নিই সবচেয়ে বড় আন্ডার-সিট স্টোরেজ থাকা সেরা ৫টি ই-স্কুটারের দাম ও ফিচার।
আগে স্কুটারে একটা হেলমেট বা ডাব রাখার জায়গাও ঠিকমতো পাওয়া যেত না। অফিসের ব্যাগ বা বাজারের থলি হ্যান্ডেলে ঝুলিয়েই স্কুটার চালাতে হতো। শুরুর দিকের ইলেকট্রিক স্কুটারগুলোতেও বড় ব্যাটারি আর কন্ট্রোলারের কারণে স্টোরেজ স্পেস একদমই থাকত না। তবে এখন দিন বদলেছে। ব্যাটারি বসানোর কায়দা আর চেসিস ডিজাইনে অনেক উন্নতি হয়েছে। রেঞ্জ আর স্পিডের পাশাপাশি কোম্পানিগুলো এখন রোজকার ব্যবহারের সুবিধার দিকেও নজর দিচ্ছে। আপনিও যদি বড় বুট স্পেসের ইলেকট্রিক স্কুটার খোঁজেন, তবে ভারতের সেরা ৫টি মডেলের তালিকা দেখে নিতে পারেন।
26
1. সিম্পল এনার্জি ওয়েভ
এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে সিম্পল এনার্জি ওয়েভ। এই স্কুটারটি আপনাকে পুরো ৭০ লিটারের বুট স্পেস দিচ্ছে। ফ্যামিলির কথা মাথায় রেখেই ডলফিনের মতো ডিজাইনের এই স্কুটারটি তৈরি করেছে কোম্পানি। সিটের নিচে অনায়াসেই দুটো ফুল-ফেস হেলমেট রাখা যায়। এর পরেও রেইনকোট বা বাজারের ব্যাগ রাখার জায়গা বেঁচে যায়। এছাড়া সামনের দিকে গ্লাভস পকেট রয়েছে, যেখানে মানিব্যাগ বা স্মার্টফোনের মতো ছোটখাটো জিনিস সহজেই রাখা যায়।
36
2. রিভার ইন্ডি স্কুটার
রিভার ইন্ডি স্কুটারটিকে অনেকেই 'স্কুটারের এসইউভি' বলেন। ভারী জিনিসপত্র বইতে এটি দারুণ ওস্তাদ। সিটের নিচে ৪৩ লিটার স্টোরেজ তো আছেই, সঙ্গে সামনে ১২ লিটারের লক করা যায় এমন গ্লাভস বক্সও দিচ্ছে কোম্পানি। সব মিলিয়ে মোট ৫৫ লিটারের স্টোরেজ পাচ্ছেন আপনি। এর এক্স-শোরুম দাম ১.৫২ লাখ থেকে ১.৫৫ লাখ টাকার মধ্যে। একবার চার্জ দিলে এটি ১৬১ কিমি রেঞ্জ দেয় এবং টপ স্পিড ঘণ্টায় ৯০ কিমি। ১৪ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল আর ডুয়াল ডিস্ক ব্রেক একে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
শহরের রাস্তায় রোজকার যাতায়াতের জন্য লেকট্রিক্স এনডিউরো দারুণ একটা অপশন। কম বাজেটে বেশি স্টোরেজ চাইলে এটি দেখতে পারেন। সিটের নিচে ৪২ লিটারের বুট স্পেস রয়েছে, যেখানে ফুল-সাইজ হেলমেট, ল্যাপটপ ব্যাগ আর বাজারের থলি অনায়াসেই রাখা যায়। এর এক্স-শোরুম দাম ৯২,০৫০ টাকা থেকে ১.০৫ লাখ টাকার মধ্যে। একবার চার্জে এটি ১৪২ কিমি রেঞ্জ দেয় এবং টপ স্পিড ঘণ্টায় ৬৫ কিমি। স্মার্ট ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল আর আইপি৬৭ ওয়াটারপ্রুফ মোটর এই স্কুটারের অন্যতম বড় ফিচার।
56
4. চেতক ক্লাসিক
নতুন বাজাজ চেতক ক্লাসিক মেটাল বডির সঙ্গে আধুনিক সব ফিচার নিয়ে এসেছে। এর চেতক ৩৫ সিরিজের স্কুটারগুলোতে ৩৫ লিটারের আন্ডার-সিট স্টোরেজ রয়েছে। এখানে একটা ফুল-ফেস হেলমেট রাখার পরও চার্জিং কেবল বা অন্যান্য জিনিস রাখার জায়গা থাকে। এর এক্স-শোরুম দাম ১.০৫ লাখ থেকে ১.৫৭ লাখ টাকার মধ্যে। একবার চার্জ দিলে এটি ১৫৩ কিমি রেঞ্জ দেয় এবং টপ স্পিড ঘণ্টায় ৭০ কিমি। প্রিমিয়াম মেটাল বডি আর কালার টিএফটি কনসোল একে বেশ স্টাইলিশ লুক দিয়েছে।
66
5. আথার রিজটা
ভারতীয় পরিবারের কথা মাথায় রেখেই আথার রিজটা ডিজাইন করা হয়েছে। চওড়া সিট আর ৩৪ লিটারের বুট স্পেস একে রোজকার ব্যবহারের জন্য পারফেক্ট করে তুলেছে। চাইলে সামনে ২২ লিটারের অতিরিক্ত 'ফ্রাঙ্ক' লাগাতে পারেন, ফলে মোট স্টোরেজ বেড়ে ৫৬ লিটার হয়ে যাবে। এর এক্স-শোরুম দাম ১.২২ লাখ থেকে ১.৬১ লাখ টাকার মধ্যে। টপ মডেলে ১৫৯ কিমি রেঞ্জ আর ঘণ্টায় ৮০ কিমি টপ স্পিড পাওয়া যায়। বেশি স্টোরেজ চাইলে সিম্পল ওয়েভ দেখতে পারেন, আর কম বাজেটে লেকট্রিক্স এনডিউরো সেরা। প্রিমিয়াম লুক চাইলে বাজাজ চেতক বা আথার রিজটা বেছে নিতে পারেন।