
জার্মানির জনপ্রিয় বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা বিএমডব্লিউ (BMW) বিশ্ববাজারে তাদের নতুন 'i3 Neue Klasse' ইলেকট্রিক গাড়িটি লঞ্চ করেছে। 'নিউ ক্লাস' আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এটিই প্রথম সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক '৩ সিরিজ' (3 Series) গাড়ি। ৩ সিরিজের চেনা ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এতে নতুন লুক, আধুনিক ইন্টেরিয়র, ডিজিটাল ফিচার এবং একদম নতুন ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেন দিয়েছে কোম্পানি। নতুন এই বিএমডব্লিউ ৩ সিরিজে বেশ কয়েকটি পাওয়ারট্রেন অপশন পাবেন ক্রেতারা। শুরুতে দুটি সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক i3 ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি ৪৮ ভোল্ট মাইল্ড-হাইব্রিড প্রযুক্তির পেট্রোল ইঞ্জিন মডেলও বাজারে আসবে। এর মধ্যে হাই-পারফরম্যান্স 'বিএমডব্লিউ M350 xDrive' পেট্রোল মডেলটি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়বে। এছাড়া আগামী বছর একটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড ভ্যারিয়েন্টও লঞ্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
নতুন বিএমডব্লিউ ৩ সিরিজ কোম্পানির 'নিউ ক্লাস' ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ মেনে তৈরি হয়েছে। গাড়িটি দেখতে একদম স্পোর্টি সেডানের মতো। ইলেকট্রিক i3 এবং পেট্রোল মডেল—দুটির লুক প্রায় একই রকম রাখা হয়েছে, শুধু পাওয়ারট্রেন অনুযায়ী বাইরের ডিজাইনে সামান্য কিছু বদল চোখে পড়বে। এই সেডানে ২.৫-বক্স সিল্যুয়েট, লম্বা হুইলবেস এবং ছোট ওভারহ্যাং ব্যবহার করেছে কোম্পানি। চওড়া হুইল আর্চ এবং স্পোর্টি পেছনের অংশ গাড়িটিকে একটি অ্যাগ্রেসিভ লুক দিয়েছে। সামনের দিকে বিএমডব্লিউ-এর আইকনিক 'কিডনি গ্রিল' এবং ডুয়াল হেডলাইট একসঙ্গে জুড়ে একটি সিঙ্গল ইউনিটে পরিণত করা হয়েছে।
ফিচারের ঝড়
ইলেকট্রিক i3 মডেলে ১৯ থেকে ২১ ইঞ্চির চাকা এবং পেট্রোল মডেলে ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল দিচ্ছে কোম্পানি। আরও স্পোর্টি লুক চাইলে ক্রেতারা M Sport বা M Sport Pro প্যাকেজ বেছে নিতে পারেন। এক্সক্লুসিভ 'M Le Castellet Blue metallic' রঙের পাশাপাশি ২০২৭ সালে আরও কিছু নতুন রঙের অপশন আসবে।
গাড়িটির কেবিন বেশ ছিমছাম বা মিনিমালিস্ট ডিজাইনের। চালকের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এটি তৈরি করেছে কোম্পানি। ড্যাশবোর্ডের মাঝখানে থাকা 'বিএমডব্লিউ প্যানোরামিক আইড্রাইভ' (BMW Panoramic iDrive) সিস্টেমে চারটি মূল ফিচার রয়েছে—প্যানোরামিক ভিশন, থ্রিডি হেড-আপ ডিসপ্লে, সেন্ট্রাল টাচস্ক্রিন এবং মাল্টিফাংশন স্টিয়ারিং হুইল। ড্যাশবোর্ডে একটি ১৭.৯ ইঞ্চির সেন্ট্রাল ডিসপ্লে রয়েছে, যা চালকের দিকে সামান্য ঘোরানো। 'প্যানোরামিক ভিশন' প্রযুক্তির সাহায্যে চালকের চোখের সামনেই উইন্ডস্ক্রিনে যাত্রার সমস্ত তথ্য ভেসে উঠবে। নতুন স্টিয়ারিং হুইল, ড্যাশবোর্ডের সঙ্গে মানানসই ডোর প্যানেল এবং ক্লাইমেট-কমফোর্ট গ্লাস দেওয়া বড় প্যানোরামিক সানরুফ গাড়ির ভেতরে একটি প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়। এছাড়া মেমরি ফাংশন যুক্ত ইলেকট্রিক সিট, অপশনাল M Sport সিট এবং হারমান কার্ডন (Harman Kardon) সাউন্ড সিস্টেমও দিয়েছে বিএমডব্লিউ।
সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক বিএমডব্লিউ i3 মডেলে ষষ্ঠ প্রজন্মের (Gen 6) 'BMW eDrive' প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে কোম্পানি। এতে সিলিন্ড্রিক্যাল সেল যুক্ত নতুন হাই-ভোল্টেজ ব্যাটারি, ৮০০ ভোল্ট ইলেকট্রিক্যাল আর্কিটেকচার এবং বাইডিরেকশনাল চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে।
BMW i3 50 xDrive মডেলটি ৪৬২ বিএইচপি পাওয়ার এবং ৬৪৫ এনএম টর্ক তৈরি করতে পারে। মাত্র ৪.৭ সেকেন্ডেই এটি শূন্য থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতি তুলে নেয়। এতে ১০৮.৭ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি রয়েছে, যা একবার ফুল চার্জে ৯১২ কিমি পর্যন্ত রেঞ্জ দেবে। সবচেয়ে বড় চমক হলো, ৪০০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জারের সাহায্যে মাত্র ১০ মিনিট চার্জ করলেই গাড়িটি ৪২৩ কিমি চলার মতো শক্তি পেয়ে যাবে।
অন্যদিকে, BMW i3 40 xDrive মডেলটি ৩৬৮ বিএইচপি পাওয়ার দেয়। মডেলটিতে ৮২.৮ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি রয়েছে, যা ৭১০ কিমি পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে সক্ষম। ২০২৭ সালে এর সবচেয়ে শক্তিশালী 'i3 M60 xDrive M Performance' মডেলটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বিএমডব্লিউ-এর।
পেট্রোল ইঞ্জিন লাইনআপের শীর্ষে রয়েছে 'বিএমডব্লিউ M350 xDrive' মডেলটি। এতে ৪৮ ভোল্ট মাইল্ড-হাইব্রিড প্রযুক্তির সঙ্গে ৩.০ লিটার ৬-সিলিন্ডার পেট্রোল ইঞ্জিন দিয়েছে কোম্পানি। এটি ৪৩৭ বিএইচপি পাওয়ার জেনারেট করে এবং মাত্র ৪.১ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিমি গতি ছুঁয়ে ফেলে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও দুটি ৪-সিলিন্ডার পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টও বাজারে আসবে।
গাড়ির গতি ও নিয়ন্ত্রণ সামলানোর জন্য এতে 'হার্ট অফ জয়' (Heart of Joy) নামের একটি হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে অ্যাডাপটিভ সাসপেনশন এবং অ্যাডাপটিভ M সাসপেনশনের সুবিধাও মিলবে। বিশেষ করে M350 xDrive মডেলে নতুন 'ড্রিফট মোমেন্ট' (Drift Moment) ফিচার দিয়েছে কোম্পানি। এটি গাড়ির পুরো শক্তি পেছনের চাকায় পাঠিয়ে চালককে নিরাপদে ড্রিফট করতে সাহায্য করে। এছাড়া নিরাপদ যাত্রার জন্য SAE লেভেল-২ ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স এবং অ্যাক্টিভ সেফটি ফিচার যুক্ত উন্নত ADAS সিস্টেমও রয়েছে এই গাড়িতে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।