
সরকার যখন থেকে দেশজুড়ে E20 পেট্রল বাধ্যতামূলক করেছে তখন থেকেই গাড়ি মালিকদের মধ্যে একটা বড় প্রশ্ন ঘুরছে, পুরনো গাড়ির কী হবে। E20 মানে হল ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো পেট্রল। ২০১০ সালের আগের অনেক গাড়ি এবং বাইকের ইঞ্জিন এই নতুন জ্বালানির সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না। ফলে মাইলেজ কমে যাচ্ছে, ইঞ্জিন থেকে আওয়াজ আসছে এবং রাবার-প্লাস্টিকের পার্টস ক্ষয়ে যাওয়ার ভয়ও থাকছে।
এই পরিস্থিতিতেই বাজারে হঠাৎ করে চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে IndianOil-এর XP100 প্রিমিয়াম পেট্রলের। XP100 আসলে ১০০ অকটেনের একটি প্রিমিয়াম জ্বালানি। বাজারে আমরা যে সাধারণ পেট্রল পাই তার অকটেন রেটিং থাকে ৮৭ থেকে ৯১-এর মধ্যে। অকটেন যত বেশি হয় ইঞ্জিনে নকিং বা ধাক্কা তত কম হয় এবং গাড়ির পারফরম্যান্স তত ভালো হয়। সেই কারণেই XP100 স্পোর্টস বাইক এবং প্রিমিয়াম গাড়ির মালিকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে।
চাহিদা বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল E20-এর ভয়। যাদের বাড়িতে পুরনো গাড়ি বা ক্লাসিক কার আছে তারা ইঞ্জিন বাঁচানোর জন্য E20 এড়িয়ে চলতে চাইছেন। তাদের কাছে XP100 এখন নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠেছে কারণ এতে ইথানলের পরিমাণ প্রায় নেই বললেই চলে। এর পাশাপাশি যারা লং ড্রাইভে যান তারা বলছেন XP100 ভরলে থ্রটল রেসপন্স অনেক ভালো হয় এবং ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বেশি মাইলেজ পাওয়া যায়।
IndianOil ধাপে ধাপে বড় শহরের নির্দিষ্ট কিছু পেট্রোল পাম্পে XP100 দেওয়া শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় "E20-এর বিকল্প" হিসেবে এর রিভিউ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষও খোঁজ নিতে শুরু করেছে। তবে এর দামও সাধারণ পেট্রলের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বর্তমানে দিল্লির মতো শহরে XP100-এর দাম প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা প্রতি লিটার। তারপরেও ইঞ্জিনের সুরক্ষার কথা ভেবে অনেকেই এই অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি হচ্ছেন।
গাড়ি কোম্পানিগুলোর মতে ২০০৯ সালের পর তৈরি BS4 এবং BS6 গাড়িগুলো E20 সাপোর্ট করে। তাই নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। আসল সমস্যা ২০১০-এর আগের গাড়িগুলো নিয়ে। তাদের জন্য আপাতত XP100 বা নরমাল পেট্রলই ভরসা। তবে রোজকার যাতায়াতের জন্য XP100 ব্যবহার করা খরচসাপেক্ষ।
সংক্ষেপে বললে, E20 চালু হওয়ার পর বাজার দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একদল নতুন নিয়ম মেনে E20 ব্যবহার করছে। আরেক দল ইঞ্জিন বাঁচানোর জন্য XP100-এর দিকে ঝুঁকছে। আর সেই কারণেই হঠাৎ করে প্রিমিয়াম পেট্রলের চাহিদা এতটা বেড়ে গেছে।