
ভারতে, সোনা কেবল একটি ধাতু নয়, বরং নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যের সমার্থক। কিন্তু যখন দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১.৬ লক্ষ টাকা, তখন এটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে, সোনা ও রূপার দাম ঐতিহাসিক সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। সকলের দৃষ্টি এখন ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে। মানুষ আশা করছে যে সরকার এমন কিছু ঘোষণা করবে যা তাদের পকেটে কিছুটা স্বস্তি দেবে এবং ঘরে বসে বিয়ের কেনাকাটা করা সহজ করবে। শিল্প বিশেষজ্ঞরাও অর্থ মন্ত্রকের কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দাবি করেছেন।
প্রথমত, দাম এত বেড়ে যাওয়ার কারণ বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে, সোনার দাম ৫,০০০ ডলারে পৌঁছেছে এবং রূপা ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনের মূল কারণ হল বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা এবং রুপির দুর্বলতা। উপরন্তু, "গ্রিনল্যান্ড বিরোধ" একটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। এই কারণগুলির ফলে দেশীয় বাজারে দাম আকাশছোঁয়া হয়ে পড়েছে, যা বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতা উভয়ের জন্যই সমস্যা তৈরি করেছে।
সোনার কেনা কেবল গয়না কেনার জন্য নয়, এটি একটি বিনিয়োগও। বিশেষজ্ঞরা সরকারকে সোভেরিন গোল্ড বন্ড (এসজিবি) স্কিম পুনর্বহাল করার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন। মাস্টার ট্রাস্ট গ্রুপের পরিচালক জশন অরোরার মতে, কর এবং শুল্কের ঘন ঘন পরিবর্তন হঠাৎ করে দামের ওঠানামা করে, যা বিনিয়োগকারীদের হতবাক করে।
SGB স্কিমটি বিনিয়োগকারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল কারণ এটি সরকারকে ২.৫% সুদের হার এবং কর সুবিধা প্রদান করত। ২০২৪ সালে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং এখন এটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। এছাড়াও, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং কর ছাড়ের মাধ্যমে ডিজিটাল সোনার প্রচারণা চালানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যাতে ঘরে থাকা সোনা অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়।
যখন আপনি গয়না কিনবেন, তখন আপনাকে সোনার দামের সাথে মেকিং চার্জ এবং GST দিতে হবে। বর্তমানে, গয়নার উপর ৩% GST আরোপ করা হয়। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল (GJC) সরকারের কাছে এই হার ১.২৫% বা ১.৫% এ কমিয়ে আনার আবেদন করেছে। সংগঠনটির যুক্তি, কর কম হলে গয়না আরও সাশ্রয়ী হবে, মধ্যবিত্ত এবং গ্রামীণ এলাকা আরও বেশি করে কিনতে পারবে। এটি ছোট জুয়েলারিদের উপর কার্যকরী মূলধনের চাপও কমাবে এবং ব্যবসা করা সহজ করবে।