
Crude Oil Price: ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও তীব্রভাবে বেড়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও বিশেষজ্ঞরা আশা করছিলেন যে, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হলে আগামী সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসতে পারে। তবে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের একটি বিবৃতি পুরো বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে।
কালিবফ তার বিবৃতিতে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের মতো আর কখনোই হবে না। তার এই বিবৃতি ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে। কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, "হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের মতো আর কখনোই হবে না।" তার এই বিবৃতিটি যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যেই এসেছে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যায়। সাম্প্রতিককালের মতো হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচল ব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে অপরিশোধিত তেলের দামও তীব্রভাবে বাড়ছে। বুধবার, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এশীয় বাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৩ ডলার ছিল। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা ব্যারেল প্রতি ৩০ ডলার বেড়ে এখন ১০৩ ডলারেরও বেশি হয়েছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ ইরানের উপর মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর থেকে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। উভয় দেশই ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং নেতৃত্বের অবস্থানে হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নিহত হন। এই পুরো ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের মেরুদণ্ড। ইরান যদি এটিকে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে। অনেক দেশ ইতিমধ্যেই বিকল্প তেলের উৎস খুঁজছে, কিন্তু কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যায়নি। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতসহ অন্যান্য দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। এর একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়বে। বর্তমানে বাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং দাম চড়া রয়েছে।