
ভারতে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নিরাপদে গাড়ি চালানোর বিষয়ে আবেদনকারীদের জ্ঞান যাচাই করতে পরীক্ষায় পাশের ন্যূনতম নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, লাইসেন্সের বিভিন্ন তথ্য সংশোধন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং লাইসেন্সের ফর্ম্যাটেও একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে Central Motor Vehicles Rules, 1989 সংশোধনের জন্য একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত নিয়মগুলি এখনও চূড়ান্ত নয়। সরকারি গেজেটে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই সেগুলি কার্যকর হবে।
বর্তমানে নিরাপদে গাড়ি চালানোর বিষয়ে অনলাইন টিউটোরিয়াল মূল্যায়নে পাশ করতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে লার্নার লাইসেন্সের আবেদনকারীদের নিরাপদে গাড়ি চালানোর নিয়ম সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি তুলে দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে কেন্দ্র। প্রস্তাব অনুযায়ী, লাইসেন্সে নাম বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন এবং ঠিকানা, মোবাইল নম্বর কিংবা ইমেল আইডি আপডেট করার জন্য ফি লাগবে না। অনলাইনে আধার যাচাইকরণের মাধ্যমে পাওয়া কয়েকটি লাইসেন্স-সংক্রান্ত পরিষেবার ফিও মকুব করার প্রস্তাব রয়েছে।
লাইসেন্সের আবেদনে পরিচয়, বয়স এবং ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কোন কোন নথি গ্রহণ করা হবে, তার তালিকাতেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ই-রেশন কার্ড এবং নির্দিষ্ট সরকারি পরিচয়পত্র গ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে। তিন মাসের বেশি পুরনো নয়, এমন বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালির গ্যাসের বিলও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে। বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট এবং স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মার্কশিট বা শংসাপত্রের মতো নথির কথা বলা হয়েছে। পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে প্যান কার্ড-সহ নির্দিষ্ট নথি গ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত নিয়মে ড্রাইভিং লাইসেন্স ল্যামিনেটেড অথবা পিভিসি (PVC) কার্ডে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য আলাদা ফর্ম্যাট রাখার প্রস্তাব রয়েছে। লাইসেন্সের নাম বা অন্যান্য তথ্য সংশোধনের আবেদন অনলাইনে প্রয়োজনীয় নথি-সহ জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন অনুমোদন বা বাতিল করার প্রস্তাব রয়েছে। আবেদন বাতিল হলে তার কারণও জানাতে হবে। ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন বা বাতিল না হলে, প্রস্তাব অনুযায়ী সেটিকে অনুমোদিত বলে গণ্য করা হবে। এ ছাড়া, কেউ নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে কোনও নির্দিষ্ট গাড়ির শ্রেণি স্থায়ীভাবে বাদ দিলে, সেই শ্রেণির জন্য এক বছরের মধ্যে নতুন লার্নার বা ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবেন না। আবেদন পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শ্রেণিটি লাইসেন্স থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এই মুহূর্তে এগুলি সবই প্রস্তাবিত সংশোধন। খসড়া বিজ্ঞপ্তি নিয়ে আপত্তি ও পরামর্শ জানানোর জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সরকার চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তাই এখনই লার্নার লাইসেন্সের পরীক্ষায় পাশের নম্বর বেড়ে ৭৫ শতাংশ হয়েছে বা নতুন নিয়ম চালু হয়ে গিয়েছে—এমনটা বলা যাবে না।