EMI বাড়াবেন নাকি লোনের মেয়াদ? RBI-র সুদ বৃদ্ধির পর কোন পথে আপনার লাখ টাকা বাঁচবে?

Published : Oct 08, 2026, 02:48 PM IST
Cash vs EMI for bike purchase

সংক্ষিপ্ত

RBI রেপো রেট বাড়াতেই বেড়েছে হোম লোনের সুদ। ব্যাঙ্কগুলো EMI বাড়াচ্ছে বা লোনের মেয়াদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই অবস্থায় কোন সিদ্ধান্তে আপনার লাখ টাকা বাঁচবে, জেনে নিন বিস্তারিত হিসেব।

RBI রেপো রেট বাড়ানো মানেই মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ। আপনার হোম লোন, কার লোন, পার্সোনাল লোনের সুদের হার বেড়ে গেছে। ব্যাঙ্ক থেকে মেসেজ এসেছে, আপনার লোনের মেয়াদ ২ বছর বেড়ে গেল। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ছোট্ট পরিবর্তনেই আপনার পকেট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে ৪-৫ লাখ টাকা বেশি?

তাই প্রশ্ন একটাই, এই মুহূর্তে কী করা উচিত? EMI বাড়াবেন, নাকি মেয়াদ বাড়তে দেবেন?

ব্যাঙ্ক কোনটা করে? ৯০% ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক আপনার EMI একই রেখে লোনের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। কারণ এতে গ্রাহকের তাৎক্ষণিক চাপ কমে, কিন্তু ব্যাঙ্ক বেশি দিন ধরে সুদ পায়। এটা ব্যাঙ্কের জন্য লাভজনক, আপনার জন্য নয়।

আসুন অঙ্ক কষে দেখি:

ধরুন, আপনি ৩০ লাখ টাকা হোম লোন নিয়েছেন, ২০ বছরের জন্য, ৮.৫% সুদে। আপনার EMI ছিল ২৬,০৩৫ টাকা। মোট সুদ দিতেন প্রায় ৩২.৪ লাখ টাকা।

এখন সুদ বেড়ে হল ৯.৫%।

১: EMI একই, মেয়াদ বাড়লো (ব্যাঙ্কের পছন্দ) EMI থাকলো ২৬,০৩৫ টাকাই। কিন্তু মেয়াদ বেড়ে হয়ে গেল ২৬ বছর ৮ মাস। অর্থাৎ আরও ৬ বছর ৮ মাস লোন টানতে হবে। এই অপশনে আপনাকে মোট সুদ দিতে হবে প্রায় ৪১.৫ লাখ টাকা। মানে আগের থেকে ৯.১ লাখ টাকা বেশি সুদ!

২: EMI বাড়ালেন, মেয়াদ একই রাখলেন (আপনার জন্য লাভজনক) আপনি ব্যাঙ্ককে বললেন মেয়াদ ২০ বছরই রাখতে। তাতে EMI বেড়ে হল ২৭,৯৯২ টাকা, মানে মাসে প্রায় ১,৯৫৭ টাকা বেশি। কিন্তু মোট সুদ দিতে হবে ৩৭.২ লাখ টাকা।

তাহলে লাভ কত? অপশন ২ নিলে আপনার সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ৪.৩ লাখ টাকা এবং ৬ বছরের দায় থেকে মুক্তি।

আপনার জন্য কোনটা সঠিক?

১. আয় ভালো থাকলে EMI বাড়ান: যদি মাসে ২-৩ হাজার টাকা বেশি দিতে পারেন, চোখ বন্ধ করে EMI বাড়ান। এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। RBI-র নিয়ম অনুযায়ী আপনি যে কোনও সময় EMI বাড়ানোর অনুরোধ করতে পারেন।

২. হাতে টাকা কম থাকলে পার্ট-প্রিপেমেন্ট করুন: এখনই EMI বাড়াতে পারছেন না? ঠিক আছে, মেয়াদ বাড়তে দিন। কিন্তু বছরে একবার বোনাস বা ইনক্রিমেন্টের টাকা থেকে ৫০ হাজার - ১ লাখ টাকা প্রিপেমেন্ট করুন। এতে মেয়াদ অটোমেটিক কমে যাবে, সুদও বাঁচবে।

৩. ব্যালেন্স ট্রান্সফার করুন: আপনার ব্যাঙ্ক ৯.৫% নিচ্ছে, কিন্তু অন্য ব্যাঙ্ক ৮.৯% এ দিচ্ছে? তাহলে লোন ট্রান্সফার করুন। ০.৬% সুদ কমলেও ২০ বছরে প্রায় ২.৫ লাখ টাকা বাঁচবে।

৪. ফ্লোটিং থেকে ফিক্সডে যাবেন? যদি মনে হয় সুদ আরও বাড়বে, তাহলে কিছু ব্যাঙ্ক ফিক্সড রেটের অফার দেয়, সেটা দেখতে পারেন। তবে সাধারণত ফ্লোটিং রেটই দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক।

সোজা কথায়, টাকা থাকলে EMI বাড়ান, টাকা কম থাকলে পার্ট-প্রিপেমেন্ট করুন। কোনও ভাবেই লোনের মেয়াদ বাড়তে দেবেন না।

PREV
Business News in Bengali (ব্যবসার খবর): Get latest Business news highlights and live updates about stock market news & Updates, Personal finance tips, Indian economy & Budget News Updates at Asianet News Bangla.
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

VDA Hike: VDA বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার, পুজোর আগেই কর্মচারীদের জন্য বিরাট সুখবর
Amazon Layoffs: গ্রেট ইন্ডিয়ান ফেস্টিভ্যালের মাঝেই অ্যামাজনে ছাঁটাই, ভারতের কর্মীদের উপরও কোপ