
বাড়ি মেরামত, পুরনো ধার শোধ বা হঠাৎ আসা বড় খরচের জন্য বাড়তি টাকার জোগাড় করা এখন আর কঠিন কিছু নয়। আপনার যদি আগে থেকেই হোম লোন থাকে, তবে তার ওপর খুব কম সুদে টপ-আপ লোন হিসেবে বাড়তি টাকা পেতে পারেন।
আপনি এই লোনের যোগ্য কি না, তা আগে থেকে চেক করে রাখলে খুব দ্রুত লোন পাশ হয়ে যায়। আপনার দরকারি টাকার জন্য হোম লোন টপ আপ এলিজিবিলিটি চেক করতে এই প্রতিবেদনটি পড়ুন।
টপ-আপ হোম লোন হলো ব্যাঙ্ক এবং হাউজিং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর (HFC) দেওয়া একটি বাড়তি লোনের সুবিধা। যাঁদের আগে থেকেই হোম লোন চলছে, তাঁরাই এই সুবিধা পান। এর মাধ্যমে আপনি আপনার চলতি হোম লোনের ওপর আরও কিছু টাকা ধার নিতে পারেন।
| লোনের বৈশিষ্ট্য | জরুরি তথ্য |
|---|---|
| প্রধান শর্ত | একটি চালু হোম লোন এবং ঠিক সময়ে ইএমআই দেওয়ার রেকর্ড |
| সুদের হার | সাধারণ পার্সোনাল লোনের চেয়ে অনেকটাই কম |
| পরিশোধের সময় | আপনার চলতি হোম লোনের বাকি সময়ের সমান |
| টাকার ব্যবহার | যেকোনো কাজে (বাড়ি মেরামত, ধার শোধ, ব্যবসার কাজে) |
টপ-আপ হোম লোনের জন্য আপনি যোগ্য কি না, তা চেক করার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো:
আপনি প্রতি মাসে ঠিক সময়ে হোম লোনের ইএমআই দিচ্ছেন কি না, ব্যাঙ্ক সবার আগে সেটাই দেখে। আপনার পেমেন্ট রেকর্ড পরিষ্কার থাকলে টপ-আপ লোন পাওয়া সহজ হয়। বাড়তি টাকা দেওয়ার আগে বেশিরভাগ ব্যাঙ্কই গত ১২ থেকে ২৪ মাসের পেমেন্ট রেকর্ড চেক করে।
আপনার মাসিক আয়ের তুলনায় প্রতি মাসে কত টাকা ইএমআই বা ধার শোধে যায়, সেটাই হলো ডেট-টু-ইনকাম রেশিও। আপনি নতুন করে আরও একটি ইএমআই টানতে পারবেন কি না, তা বুঝতে ব্যাঙ্ক এই সহজ হিসাবটি কষে। এই রেশিও কম থাকলে আপনার টপ-আপ লোন পাওয়ার সুযোগ বাড়ে এবং বেশি টাকা লোন পাওয়া যায়।
| DTI রেশিও | আর্থিক অবস্থা | ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত |
|---|---|---|
| ৩৫%-এর নিচে | বাজেট ভালো | কম সুদে দ্রুত লোন পাশ |
| ৩৫% থেকে ৫০% | মাঝারি ধার | সাধারণভাবে লোন পাশ; তবে আয়ের বাড়তি প্রমাণ চাইতে পারে |
| ৫০%-এর ওপরে | ধারের চাপ বেশি | লোন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি বেশি বা কম টাকার লোন |
ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকলে ব্যাঙ্ক বুঝতে পারে যে আপনি ধারের টাকা ঠিকমতো সামলাতে পারেন এবং সময়মতো শোধ করেন।হোম লোনের যোগ্যতা চেক করারসময় বেশিরভাগ ব্যাঙ্কই ৭০০ বা তার বেশি ক্রেডিট স্কোর খোঁজে।
আপনার বাড়ির বর্তমান দাম থেকে লোনের বাকি টাকা বাদ দিলে যা থাকে, তার ওপর নির্ভর করেই আপনি সর্বোচ্চ কত টাকা লোন পাবেন তা ঠিক হয়। বাড়ির মোট দামের একটি নির্দিষ্ট শতাংশের নিচেই ব্যাঙ্ক লোনের লিমিট বেঁধে দেয়। সম্পত্তির দাম বাড়লে আপনার ইকুইটি বাড়ে, ফলে টপ-আপ লোন পাওয়াও সহজ হয়।
শেষ ধাপে আপনার আয়ের প্রমাণপত্রগুলো গুছিয়ে নিন এবং অনলাইন ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে দেখুন। ব্যাঙ্কে কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগেই এই ধাপটি আপনার টপ-আপ লোনের যোগ্যতা নিশ্চিত করে।
আপনার হিসাব যদি ব্যাঙ্কের নিয়মের সঙ্গে না মেলে, তবে আর্থিক অভ্যাসে ছোটখাটো বদল এনেই প্রোফাইল ভালো করা যায়। যোগ্যতা বাড়াতে পারলে খুব সহজেই লোন প্রসেস হয় এবং ভালো শর্তে লোন পাওয়া যায়।
আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপ্লাই করার আগে এই বিষয়গুলো যাচাই করে নিলে আপনি কত টাকা লোন পেতে পারেন, তার একটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। পেমেন্ট হিস্ট্রি ঠিক রাখা, ডেট-টু-ইনকাম রেশিও কম রাখা এবং ভালো ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখার মাধ্যমে আপনি ICICI HFC-এর মতো লেন্ডারদের কাছ থেকে দ্রুত এবং কম সুদে লোন পেতে পারেন।
আপনার সম্পত্তির ইকুইটি, লোন-টু-ভ্যালু লিমিট এবং চাকরির স্থায়িত্ব যাচাই করে নিলে আপনি সবচেয়ে বেশি টাকার টপ-আপ লোন পেতে পারেন। পাশাপাশি আপনার মাসিক ইএমআই-ও বাজেটের মধ্যে থাকে।