
ব্যবসা করার নিয়মকানুন আরও সহজ করতে কেন্দ্র একটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে লিগ্যাল মেট্রোলজি অ্যাক্ট, ২০০৯-এর অধীনে ব্যবসায়ীরা ছোটখাটো ভুল করলে প্রথমেই আর বড়সড় জরিমানার মুখে পড়বেন না। তাঁদের ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য একটি সুযোগ দেওয়া হবে। এর জন্য ‘ইমপ্রুভমেন্ট নোটিস’ নামে একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
সোমবার ক্রেতা সুরক্ষা বিষয়ক দফতর (Department of Consumer Affairs) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, জন বিশ্বাস (প্রভিশন সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে এই নতুন নিয়মটি আনা হয়েছে। এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হল ব্যবসা করার পরিবেশকে আরও সহজ করে তোলা। এর ফলে সংস্থাগুলি নিজে থেকেই নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত হবে, অপ্রয়োজনীয় মামলা-মোকদ্দমা কমবে এবং একটি বিশ্বাস-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রক পরিকাঠামো তৈরি হবে। তবে গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নতুন ব্যবস্থার অধীনে, যদি কোনও ব্যবসা প্রথমবার নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতিগত বা নিয়ন্ত্রক নিয়ম লঙ্ঘন করে, তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুরু করার আগে তাদের সেই ভুল সংশোধন করার সুযোগ দেওয়া হবে।”
এই নতুন নিয়মে, কোনও ব্যবসা প্রথমবার ভুল করলে একজন লিগ্যাল মেট্রোলজি অফিসার একটি ‘ইমপ্রুভমেন্ট নোটিস’ জারি করতে পারবেন। সেই নোটিসে নির্দিষ্ট করে বলা থাকবে কী ভুল হয়েছে এবং তা সংশোধনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। যদি ওই সংস্থা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভুল শুধরে নেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আর কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং মামলা-মোকদ্দমাও এড়ানো যাবে। তবে, যদি তারা নোটিস না মানে বা একই ভুল বারবার করে, তাহলে লিগ্যাল মেট্রোলজি অ্যাক্টের অধীনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দফতর জানিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন উৎপাদক, আমদানিকারক, প্যাকার, ডিলার, মেরামতকারী, ট্রেডার, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলি।
সরকারের মতে, এই সংস্কারের ফলে সংস্থাগুলি স্বেচ্ছায় নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত হবে। এতে তাদের কমপ্লায়েন্স খরচ কমবে এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি হবে। এর পাশাপাশি, নজরদারি সংস্থাগুলিও ইচ্ছাকৃত এবং বারবার নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
এই ‘ইমপ্রুভমেন্ট নোটিস’ ব্যবস্থাটি মূলত প্রথমবার করা পদ্ধতিগত ভুলের জন্য প্রযোজ্য। যেমন - রেজিস্ট্রেশনের নিয়মকানুন, ডকুমেন্টেশন এবং রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণে ভুল, মডেল অনুমোদনের অভাব, ওজন ও পরিমাপ যন্ত্রের উৎপাদন ও বিক্রিতে ত্রুটি, আমদানি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন এবং অন্যান্য তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ছোটখাটো ভুল।
এর মধ্যে রয়েছে নন-স্ট্যান্ডার্ড ওজন ও মাপ ব্যবহার বা বিক্রি করা, নির্ধারিত মানের বাইরে লেনদেন, নথি দেখাতে না পারা, মডেল অনুমোদন না নেওয়া, আমদানি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন, ভুল তথ্য দেওয়া এবং রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ব্যবসা চালানো।
দফতর স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নতুন ব্যবস্থার মানে এই নয় যে গ্রাহকদের সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপস করা হচ্ছে। জালিয়াতি, বারবার নিয়ম লঙ্ঘন, কারচুপি এবং গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে এমন কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া আগের মতোই চলবে।
সরকারের মতে, এই সংস্কারটি তাদের "ন্যূনতম সরকারি হস্তক্ষেপ, সর্বোচ্চ সুশাসন" (Minimum Government, Maximum Governance) নীতিরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে একটি বিশ্বাস-ভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দফতর জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা সৎ ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলতে সাহায্য করার পাশাপাশি আইনি মেট্রোলজি সিস্টেমের অখণ্ডতা রক্ষা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করবে। (ANI)