
অর্থনীতির ক্ষেত্রে ভাল খবর এসেছে। তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি পরিসংখ্যান প্রত্যাশার চেয়ে ভাল ছিল। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮%। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতি ভাল পারফর্ম করেছে। উৎপাদন, পরিষেবা এবং বিনিয়োগ খাতে উন্নতি জিডিপি বৃদ্ধির পিছনে মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সরকার ২০২৫-২৬ (FY26) পূর্ণ অর্থবছরের জন্য ৮.৬% নমিনাল জিডিপি বৃদ্ধির হার অনুমান করেছে। নমিনাল জিডিপিতে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত, তাই এই পরিসংখ্যান সরকারের রাজস্ব অবস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। নমিনাল বৃদ্ধি ভাল থাকলে কর আদায় বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ভাল হয়। যার মানে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
এদিকে, অর্থ মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, এপ্রিল-জানুয়ারি সময়ের জন্য রাজস্ব ঘাটতি ১৫.৫৮৫ লক্ষ কোটি টাকার সংশোধিত পূর্ণ-বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৬৩% এ পৌঁছেছে। আর্থিক বছরের এই পর্যায়ে এই ঘাটতির মাত্রা সাধারণত ভারসাম্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, যা ইঙ্গিত দেয় যে সরকার ব্যয় এবং রাজস্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।
আগে, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (Q2) ভারতের GDP বৃদ্ধির হার ৭.৬% রেকর্ড করা হয়েছিল, যেখানে চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে GDP বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২%। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) তৃতীয় ত্রৈমাসিকে প্রায় ৬.৮% বৃদ্ধির হার অনুমান করেছিল, যেখানে সরকারের অর্থ বিভাগ বৃদ্ধির অনুমান করেছিল প্রায় ৭%। তৃতীয় ত্রৈমাসিকের GDP ফলাফল ২০২২-২৩ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর হিসাবে ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়েছিল। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং অর্থনীতি মন্ত্রক (MoSPI) প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ভিত্তি বছর সংশোধন করার চেষ্টা করছে। নতুন হিসাব অনুসারে, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ভারতের প্রকৃত GDP ছিল ৮৪.৫৪ লক্ষ কোটি, যা বার্ষিক ভিত্তিতে ৭.৮% বৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করে। সরকার জানিয়েছে যে নতুন সিরিজে জিএসটি তথ্য, কর্পোরেট আর্থিক প্রতিবেদন, জরিপ এবং ডিজিটাল অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সহ বিস্তৃত উৎস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জিডিপি পরিসংখ্যানের নির্ভুলতা এবং ব্যাপকতা বৃদ্ধি করে। এই পরিবর্তন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণকে আরও বাস্তবসম্মত এবং সমসাময়িক অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক করে তোলে।