
India Winding Wire Sector: PhillipCapital-এর একটি রিপোর্ট বলছে, ভারতের ওয়াইন্ডিং ওয়্যার শিল্প একটি বিরাট পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দেশে দ্রুত গতিতে বিদ্যুতায়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণে বিপুল বিনিয়োগ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের ফলে এই সেক্টরটি বড় লাফ দিতে চলেছে। ব্রোকারেজ সংস্থাটি জানিয়েছে, ট্রান্সফরমার, মোটর এবং জেনারেটরের মতো যন্ত্রের অন্যতম জরুরি উপাদান হল এই ওয়াইন্ডিং ওয়্যার। ভারতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং শক্তি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সঙ্গে এই শিল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), ডেটা সেন্টার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন এবং হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার-কন্ডিশনিং (HVAC) সিস্টেমের চাহিদা যত বাড়ছে, ততই সংগঠিত সংস্থাগুলির জন্য ব্যবসার সুযোগ এবং লাভের মার্জিন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
ভারত সরকার ২০২৪ অর্থবর্ষে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪৪২ গিগাওয়াট (GW) থেকে বাড়িয়ে ২০৩২ সালের মধ্যে প্রায় ৯০০ গিগাওয়াট করার পরিকল্পনা করেছে। সেইজন্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিকাঠামোতে ৯ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সাবস্টেশন, ট্রান্সমিশন লাইন এবং ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা বাড়ানোর এই বিশাল কর্মকাণ্ড ডিস্ট্রিবিউশন, পাওয়ার এবং স্পেশালিটি ট্রান্সফরমারের দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা বাড়িয়ে দেবে, যা সরাসরি ওয়াইন্ডিং ওয়্যার নির্মাতাদের সাহায্য করবে।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং গ্রিড আধুনিকীকরণও এই শিল্পের বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত ২০৩২ সালের মধ্যে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৬১২.৭ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১৯৪ গিগাওয়াট থেকে অনেক বেশি। তার জন্য বার্ষিক ১৫.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি প্রয়োজন। ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, স্মার্ট গ্রিড এবং গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্পের প্রসারের ফলে ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, ইনভার্টার এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ওয়াইন্ডিং ওয়্যারের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হবে।
PhillipCapital জানাচ্ছে, এই শিল্প এখন সাধারণ পণ্যের বদলে উন্নত মানের এবং বেশি দামি পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। তার মধ্যে রয়েছে কন্টিনিউয়াসলি ট্রান্সপোজড কন্ডাক্টর, পেপার-ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর, রেক্ট্যাঙ্গুলার ওয়্যার, করোনা-প্রতিরোধী ওয়্যার এবং ইভি-গ্রেড ওয়াইন্ডিং ওয়্যার। এই ধরনের পণ্য তৈরির জন্য কঠোর যোগ্যতার মান এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োজন, যা সংগঠিত সংস্থাগুলির মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করবে।
ব্রোকারেজ সংস্থাটি মনে করছে, শিল্পক্ষেত্রে ফর্ম্যালাইজেশন (অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকে সংগঠিত ক্ষেত্রের দিকে ঝোঁক) এবং 'চায়না+১' স্ট্র্যাটেজি নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বিশ্বব্যাপী সংস্থাগুলি যখন তাদের সাপ্লাই চেইনকে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিতে চাইছে, তখন ভারত থেকে ট্রান্সফরমার, মোটর এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের রফতানি বাড়বে।
গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য তামা এখনও পছন্দের কন্ডাক্টর হিসেবেই থাকবে। এর কারণ হল এর উন্নত বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা, তাপীয় দক্ষতা এবং স্থায়িত্ব। ইভি ট্র্যাকশন মোটর, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সরঞ্জাম, HVDC ট্রান্সফরমার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন এবং ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্র থেকে তামার চাহিদা শক্তিশালী থাকবে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারতে কপার টিউবের ক্ষেত্রেও একটি বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান HVAC বাজার, ঘরে এয়ার-কন্ডিশনারের কম ব্যবহার এবং আমদানি কমানোর চেষ্টার ফলে এই চাহিদা আরও বাড়বে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।