
বিমান ভাড়া কমাতে এবার ইউরোপ-আমেরিকার ‘বেসিক ইকোনমি’ মডেল নিয়ে এল ইন্ডিগো। সংস্থার নতুন ফেয়ার ক্যাটাগরি ‘লাইট’ চালু হয়েছে ১৫ এপ্রিল থেকে। এখন ইন্ডিগোর টিকিট বুকিংয়ের সময় ৪টি অপশন দেখাবে: লাইট, সেভার, ফ্লেক্সি, সুপার ৬E।
*লাইট ফেয়ার মানে কী? কী পাবেন, কী পাবেন না?*
*পাবেন:*
১. ৭ কেজি পর্যন্ত একটি কেবিন ব্যাগ + ল্যাপটপ ব্যাগ বা লেডিস পার্স।
২. ফ্রি ওয়েব চেক-ইন।
৩. ৬E রিওয়ার্ড পয়েন্ট।
৪. তারিখ বদল করা যাবে, তবে চার্জ লাগবে ৩০০০ টাকা + ভাড়ার পার্থক্য।
*পাবেন না:*
১. ১৫ কেজির ফ্রি চেক-ইন ব্যাগেজ। একদম জিরো।
২. কমপ্লিমেন্টারি সিট সিলেকশন। র্যান্ডম সিট পাবেন। পছন্দের সিট নিতে গেলে ২০০ টাকা থেকে শুরু।
৩. ফ্রি স্ন্যাকস। খাবার কিনতে হবে।
৪. টিকিট ক্যানসেল করলে শুধু ট্যাক্স ফেরত পাবেন। বেস ফেয়ার ফেরত নেই।
*কতটা সস্তা? রুট অনুযায়ী তুলনা*
ইন্ডিগোর ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেল, লাইট ফেয়ার সেভার ফেয়ারের চেয়ে ৩০০-১০০০ টাকা সস্তা।
**রুট** **লাইট ফেয়ার** **সেভার ফেয়ার** **কত সেভ**
কলকাতা-গুয়াহাটি ₹৯৯৯ ₹১৩৯৯ ₹৪০০
দিল্লি-জয়পুর ₹১১৯৯ ₹১৫৯৯ ₹৪০০
বেঙ্গালুরু-গোয়া ₹১৪৯৯ ₹১৯৯৯ ₹৫০০
কলকাতা-দিল্লি ₹২৭৯৯ ₹৩৪৯৯ ₹৭০০
মুম্বাই-আমদাবাদ ₹১২৯৯ ₹১৬৯৯ ₹৪০০
_বি.দ্র.: এটা বেসিক ভাড়া। ৩০-৪৫ দিন আগে কাটলে এই রেট পাবেন। শেষ মুহূর্তে দাম বাড়বে।_
*কাদের জন্য লাইট ফেয়ার? কাদের জন্য নয়?*
*নিন, যদি:*
১. ১-২ দিনের ট্রিপ। একটা ব্যাকপ্যাকেই সব হয়ে যায়।
২. আপনি ‘ডিজিটাল নোম্যাড’ বা স্টুডেন্ট। ল্যাপটপ আর ২ সেট জামা নিয়েই ঘোরেন।
৩. কর্পোরেট ডে ট্রিপ। সকালে গিয়ে রাতে ফেরা।
*নেবেন না, যদি:*
১. ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছেন। বাচ্চার দুধ, জামা, খেলনা লাগবেই।
২. ৪-৫ দিনের ট্যুর। ৭ কেজিতে হবে না।
৩. এয়ারপোর্টে গিয়ে মত বদলান। “ইশ, এই জিনিসটা নিলে হতো” ভাবেন। কারণ লাইট ফেয়ারে এয়ারপোর্টে ব্যাগ দিতে গেলে প্রথম ১৫ কেজি ২৫০০ টাকা, তারপর প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা। মানে ৪০০ টাকা বাঁচাতে গিয়ে ২৫০০ টাকা ফাইন।
*লাইট ফেয়ার বুক করার আগে ৩টি সতর্কতা:*
১. *কেবিন ব্যাগের মাপ চেক করুন:* ৫৫ সেমি x ৩৫ সেমি x ২৫ সেমি। লম্বা ট্রলি হলেই গেটে আটকে দেবে। সাইজ বেশি হলে জোর করে চেক-ইনে দিতে হবে আর ফাইন নেবে।
২. *লিকুইড নিয়ম মানুন:* কেবিনে ১০০ মিলি-র বেশি শ্যাম্পু, পারফিউম, জলের বোতল নেওয়া যাবে না। ভুলে গেলে ফেলে দিতে হবে।
৩. *রিটার্ন টিকিটও লাইট কিনা দেখুন:* যাওয়ার সময় লাইট কেটে ফেরার সময় শপিং করে ফেললেন। তখন ফেরার ফ্লাইটে ফাইন দিতে হবে। তাই দুটো দিকই ভেবে কাটুন।
*ইন্ডিগো কেন আনল এই ফেয়ার?*
বিমান সংস্থাগুলোর খরচের ৩০% যায় তেল ও ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে। চেক-ইন ব্যাগ কম মানে প্লেন হালকা, তেল কম পোড়ে, লোড-আনলোডে সময় কম লাগে। ফলে ইন্ডিগো এক দিনে বেশি ট্রিপ করতে পারবে। ইউরোপের Ryanair, আমেরিকার Spirit Airlines বহু বছর ধরে এই মডেলে চলে। এবার ভারতেও শুরু হল। আকাসা ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও একই ফেয়ার আনার কথা ভাবছে।
*এক্সপার্ট টিপস:* লাইট ফেয়ার কাটলে একটা ফোল্ডেবল ডাফল ব্যাগ কেবিন ব্যাগের ভিতরে রাখুন। ফেরার সময় শপিং করলে এয়ারপোর্টে ওই ব্যাগ বের করে জামাকাপড় ভরে চেক-ইন করুন। আগে থেকে ইন্ডিগোর অ্যাপে ‘প্রি-বুক এক্সট্রা ব্যাগ’ করলে ১৫ কেজি ১৫০০ টাকায় হয়ে যাবে। এয়ারপোর্টে ২৫০০ টাকার বদলে ১০০০ টাকা বাঁচবে।
কম খরচে ঘোরার জন্য লাইট ফেয়ার দারুণ। কিন্তু শর্তগুলো না জানলে সস্তার তিন অবস্থা হবে। তাই টিকিট কাটার আগে ব্যাগ ওজন করুন, তারপর বুক করুন।