
Online Food Delivery: ইনভেস্টেক ইকুইটিজের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের অনলাইন ফুড ডেলিভারি বাজার এই মুহূর্তে তার বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করে গেছে। তবে এই বৃদ্ধির কারণ নতুন গ্রাহক তৈরি নয়। বরং, বর্তমান গ্রাহকদের ঘন ঘন অর্ডার দেওয়া, টায়ার-২ ও তার বাইরের শহরগুলোতে ব্যবসা ছড়ানো এবং অর্ডারের গড় মূল্য (AOV) বেড়ে যাওয়া।
একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে এই সেক্টরের বাজারমূল্য গিয়ে দাঁড়াবে ৯.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে তা প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছে যেতে পারে। অর্থাৎ, বছরে ১৯% হারে চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি (CAGR) হবে। মূলত, ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার বৃদ্ধির জেরেই দ্রুত এই বদল আসছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বৃহত্তর খাদ্য পরিষেবা বা ফুড সার্ভিসেস বাজার অর্থবর্ষ ২০-তে ৪ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে অর্থবর্ষ ২৫-এ ৭ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছে গেছে। অনুমান করা হচ্ছে, অর্থবর্ষ ৩০-এর মধ্যে এটি ১১-১২ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছে যাবে। যার মানে হল, বছরে ১১-১২% হারে বৃদ্ধি হবে।
তবে এখনও মোট খাদ্য খরচের মাত্র ১৩ শতাংশই এই বাজারের আওতায় আসে। আমেরিকার ক্ষেত্রে এই হার ৫৮-৬২ শতাংশ এবং চিনে ৪২-৪৬ শতাংশ। তার কারণ হল, ভারতীয়রা বাড়িতে রান্না করা খাবার বেশি পছন্দ করেন এবং বাইরে খাওয়ার ব্যাপারে খরচের বিষয়ে বেশ সংবেদনশীল। তবে ছোট পরিবার, কাজের লম্বা সময়, নগরায়ন এবং পরিবারের থেকে দূরে থাকার মতো কারণে বাইরে থেকে খাওয়া বা খাবার অর্ডার দেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
ইনভেস্টেক জানিয়েছে, অর্গানাইজড বা সংগঠিত ক্ষেত্রের শেয়ার দ্রুত বাড়ছে বাজারে। অর্থবর্ষ ২০-তে যা ছিল ৩৬-৪১ শতাংশ, তা অর্থবর্ষ ২৫-এ বেড়ে ৪৭-৫২ শতাংশ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অর্থবর্ষ ৩০-এর মধ্যে এটি ৬০-৬৫ শতাংশে পৌঁছে যাবে।
অর্থবর্ষ ২৫-এ অর্গানাইজড বাজারের আকার ৩.২-৩.৫ ট্রিলিয়ন টাকা। অর্থবর্ষ ৩০-এর মধ্যে এটি ৬.৬-৭.৮ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নেতৃত্বে থাকবে ব্র্যান্ডেড রেস্তোরাঁ চেইন, ক্লাউড কিচেন এবং ডেলিভারি-ভিত্তিক ফরম্যাট, যা গ্রাহকদের ধারাবাহিক পরিষেবা ও সুবিধা দেয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে মাথাপিছু রেস্তোরাঁর সংখ্যাও বেশ কম, যা অর্গানাইজড সংস্থাগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।
তার মধ্যে আবার অনলাইন ফুড ডেলিভারি সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থবর্ষ ২০-তে এর বাজারমূল্য ছিল ২৭০ বিলিয়ন ডলার, যা অর্থবর্ষ ২৫-এ ৭৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আশা করা হচ্ছে, অর্থবর্ষ ৩০-এর মধ্যে এটি ১.৭-২.২ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছাবে, যেখানে বার্ষিক বৃদ্ধির হার থাকবে ১৭-২৩ শতাংশ। এত কিছুর পরেও, মোট খাদ্য পরিষেবা বাজারের মাত্র ১১ শতাংশ অনলাইন ডেলিভারির দখলে, যা ২০১৮ সালে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ এখনও অনেক।
সুবিধার জন্য কেনাকাটা, স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উন্নত সাপ্লাই ব্যবস্থার কারণে এই বৃদ্ধি হচ্ছে। একদিকে ছোট পরিবার ও তরুণ কর্মীরা খাবার অর্ডার করার দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে, অর্গানাইজড রেস্তোরাঁ নেটওয়ার্ক ও লজিস্টিকস ক্ষমতা বাড়ায় ডেলিভারি আরও নির্ভরযোগ্য হয়েছে।
বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপটি নতুন গ্রাহক যোগ করার বদলে বর্তমান গ্রাহকদের আরও বেশি যুক্ত করার উপর নির্ভর করবে। ২০২৪ সালে, বছরে অন্তত একবার ব্যবহার করা গ্রাহকের (ATU) সংখ্যা ছিল ৮৫ মিলিয়ন। তাদের মধ্যে ২৭ শতাংশ বা ২৩ মিলিয়ন গ্রাহক প্রতি মাসে লেনদেন করেন (MTU)।
আশা করা হচ্ছে, মানুষের অভ্যাস তৈরির ফলে ২০২৯ সালের মধ্যে এই হার বেড়ে ৩২ শতাংশ হবে। যদিও মেট্রো এবং টায়ার-১ শহরগুলো এখনও বাজারের ৭৫-৮০ শতাংশ জোগান দেয়। টায়ার-২ ও তার বাইরের শহরগুলো ইতিমধ্যেই ২০-২৫ শতাংশ অবদান রাখছে। এর থেকে বোঝা যায় যে, বাজারটি শুধুমাত্র বড় শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৯ সালের মধ্যে মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৩৭ মিলিয়নে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতীয় গ্রাহকরা মাসে গড়ে ৩-৫ বার খাবার অর্ডার করেন। তুলনায়, আমেরিকায় এই সংখ্যা ৮-১০ এবং চিনে ৫-১০। এই ব্যবধানই প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।
অর্ডারের গড় মূল্যও (AOV) বাড়ছে। জোম্যাটো এবং সুইগির ক্ষেত্রে অর্থবর্ষ ২২-এ যা ছিল যথাক্রমে ২৮২ টাকা ও ৪০৭ টাকা, তা অর্থবর্ষ ২৬-এ বেড়ে ৪৬১ টাকা ও ৪৬৩ টাকা হবে বলে অনুমান। রেডসিয়ার (Redseer) সংস্থা জানাচ্ছে, প্রিমিয়াম রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের জোগান বাড়ায় ২০২৮ সালের মধ্যে এই শিল্পের গড় অর্ডার ভ্যালু ৫৪২ টাকায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে বছরে ৬-৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি হবে। ইনভেস্টেকের মতে, যেহেতু বাজার এখনও অনেকটাই নতুন এবং অর্গানাইজড সেক্টর দ্রুত বাড়ছে, তাই ডেলিভারি-ভিত্তিক সংস্থাগুলোর জন্য ভারতে ব্যবসা বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।