
RBI and Foreign Investment: জুলাই মাসে, পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছিল। কিন্তু তারপরেও ভারতীয় টাকার দামে বড়সড় পতন আটকানো গেছে। ব্যাঙ্ক অফ বরোদার (BoB) একটি গবেষণা রিপোর্ট বলছে, এর পেছনে প্রধান কারণ হল বিপুল পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগ এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) সময়মতো নেওয়া কিছু জরুরি পদক্ষেপ (RBI and Foreign Investment)।
সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই মাসে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও টাকার দাম পড়েছে মাত্র ০.৮%। তার কারণ হিসেবে রয়েছে দুর্বল মার্কিন ডলার, বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ এবং RBI-এর হস্তক্ষেপ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জুলাই মাসে ভারতীয় টাকা (INR) বেশ সতর্কভাবে লেনদেন করেছে। এই মাসে তেলের দাম ২০%-এর বেশি বাড়লেও টাকার দাম মাত্র ০.৮% হ্রাস পেয়েছে।”
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) গত ২২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যার বেশিরভাগটাই এসেছে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ থেকে। পাশাপাশি RBI-এর বিশেষ কিছু পদক্ষেপের ফলে দেশে ৪০.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, টাকার দাম স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফরেক্স মার্কেটে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে।
ব্যাঙ্ক অফ বরোদা জানিয়েছে, জুলাই মাসে মার্কিন ডলার সূচক (DXY) ১.৩ শতাংশ কমে যাওয়াটাও টাকাকে সাহায্য করেছে। যদিও অপরিশোধিত তেলের বাড়তি দাম টাকার উপর চাপ তৈরি করেছিল। রিপোর্টে আরও যোগ করা হয়েছে যে, ঐ মাসে মোট ৪.২ বিলিয়ন ডলারের FPI বিনিয়োগ এসেছে, যার সিংহভাগই ইক্যুইটিতে। পাশাপাশি ডেট মার্কেটেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ঘাটতি বাড়লেও ভারতের বৈদেশিক লেনদেনের অবস্থা এখনও বেশ স্বস্তিদায়ক। তার পিছনে অন্যতম কারণ হল, বিদেশ থেকে পাঠানো বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স, পরিষেবা খাত থেকে বাড়তি আয় এবং মজবুত বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৪ জুলাই পর্যন্ত ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার ছিল ৬৮২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব।
ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা জানাচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা সম্ভবত তেলের দামকে বেশির দিকেই রাখবে এবং কারেন্সি মার্কেটে অস্থিরতা বজায় থাকবে। তবে বিদেশি বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকলে এবং RBI-এর নীতিগত পদক্ষেপের কারণে টাকার আরও পতন আটকানো সম্ভব হবে। রিপোর্ট শেষে বলা হয়েছে, “সবমিলিয়ে আমরা আশা করছি যে, স্বল্পমেয়াদে প্রতি ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় টাকা ৯৫.২৫ থেকে ৯৫.৭৫-এর মধ্যে থাকবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।