
RBI Repo Rate: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) আবার রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল। সুদের হার থাকছে ৫.২৫ শতাংশেই। পাশাপাশি নিজেদের 'নিউট্রাল' মনিটারি পলিসি অবস্থানও বজায় রেখেছে দেশের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এই সিদ্ধান্তের ফলে, স্বল্পমেয়াদে শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে সংস্থাগুলির লাভ, বিনিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে টাকার জোগান কতটা বাড়ছে, তার উপর।
আনন্দ রাঠি গ্রুপের চিফ ইকোনমিস্ট এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সুজন হাজরা এই পলিসির বিষয়ে জানান, “RBI আপাতত থেমেছে, কিন্তু স্বস্তিতে নেই। রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে রেখে দেওয়া এবং নিউট্রাল অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, দেশের আর্থিক বৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকলেও, ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সুযোগ কমে আসছে।” তাঁর মতে, অনিয়মিত বর্ষা, খাদ্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার কারণে মুদ্রাস্ফীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এখনই কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চাইছে। তিনি বলেন, "এই কারণে RBI তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে চাইছে। যাতে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "বাজারের জন্য এই স্থিতিশীলতা ভালো। তবে শেয়ার বাজারের আসল উন্নতি নির্ভর করছে সংস্থাগুলির আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং অভ্যন্তরীণ টাকার জোগান কতটা শক্তিশালী তার উপর।"
RBI তাদের পলিসি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে স্বল্পমেয়াদে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। তবে মূল মুদ্রাস্ফীতি (core inflation) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মুদ্রাস্ফীতির গতিপথ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। তবে মুদ্রাস্ফীতিকে লক্ষ্যের মধ্যে রাখার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরও পড়ুনঃ RBI MPC Meeting: এবার কি বাড়ি ও গাড়ির লোন সস্তা হবে? দু'দিনের মধ্যেই ফলাফল জানাবে আরবিআই
এমকে গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের চিফ ইকোনমিস্ট মাধবী অরোরা বলেছেন, এই নীতিটি একটি সতর্ক কিন্তু গঠনমূলক পদক্ষেপ। তাঁর মতে, "এই নীতির সুরে সতর্কতা রয়েছে, যদিও এটি গঠনমূলক। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশ্বজুড়ে কঠিন আর্থিক পরিস্থিতি এবং এল নিনোর ঝুঁকির মতো অনিশ্চয়তার সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি এবং FCNR+ ইনফ্লোর মতো ইতিবাচক দিকগুলির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, প্রথম ত্রৈমাসিকে মুদ্রাস্ফীতি RBI-এর পূর্বাভাসের চেয়ে কম থাকা সত্ত্বেও, MPC এল নিনো-সম্পর্কিত ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছে। তারা বারবার বলেছে যে, স্বল্পমেয়াদী মূল্যবৃদ্ধি মূলত জোগান-সম্পর্কিত, যতক্ষণ না এটি বৃহত্তর মুদ্রাস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারছে।
RBI আরও জানিয়েছে যে, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যকলাপ স্থিতিশীল রয়েছে। শক্তিশালী উৎপাদন ও পরিষেবা ক্ষেত্র, ভালো রফতানি এবং জোরালো অভ্যন্তরীণ চাহিদা একে সমর্থন জোগাচ্ছে। তবে বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আবহাওয়ার ঝুঁকি এখনও রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৭ শতাংশ অনুমান করেছে। যার মধ্যে প্রথম ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.০%। বৃদ্ধির পূর্বাভাসের ঝুঁকিগুলি সমানভাবে বিভক্ত বলে তারা মনে করছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।