Unauthorized Bank Transaction: আপনার মোবাইলে হঠাৎ একটা মেসেজ এল যে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে বা অন্য কোথাও ট্রান্সফার হয়েছে। অথচ আপনি নিজে এমন কোনও লেনদেন করেননি। ব্যালেন্স চেক করে দেখলেন, অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ হাজার টাকা গায়েব! এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই ঘাবড়ে গিয়ে সবার আগে ব্যাঙ্কে ফোন করেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, অ্যাকাউন্ট থেকে এভাবে টাকা চুরি গেলে ব্যাঙ্ক কি সেই টাকা ফেরত দেয়?
এই বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর খুব স্পষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিলে সেই ক্ষতির দায় কার হবে, তা নির্ভর করে জালিয়াতির ধরনের ওপর। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক পুরো টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতির দায় গ্রাহককেই নিতে হয়।
অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হওয়ার বিষয়টি নজরে এলে, কীভাবে জালিয়াতি হল তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করবেন না। সবার আগে ব্যাঙ্ককে পুরো বিষয়টি জানান। আপনি যে ওই লেনদেন করেননি, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করুন। এরপর ব্যাঙ্কের কাছ থেকে অভিযোগের নম্বরটি (কমপ্লেন্ট নম্বর) নিয়ে যত্ন করে রেখে দিন। আরও টাকা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে, অবিলম্বে অ্যাকাউন্টের সব লেনদেন বা ইউপিআই পেমেন্ট ব্লক করে দেওয়ার নির্দেশ দিন।
যে লেনদেনটি হয়েছে তার টাকার পরিমাণ, তারিখ এবং ট্রানজ্যাকশন আইডি লিখে রাখা খুব জরুরি। ব্যাঙ্কের পাঠানো মেসেজ এবং লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও সেভ করে রাখবেন। এর পাশাপাশি, ১৯৩০ সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে দ্রুত অভিযোগ জানাতে হবে। ঠিক সময়ে অভিযোগ জানালে অনেক সময় জালিয়াতদের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হওয়া আটকে দেওয়া সম্ভব হয়।
ব্যাঙ্কের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গলদ থাকার কারণে যদি আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি যায়, তবে আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে কোনও ক্ষতির দায় নিতে হবে না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আপনি যদি সঙ্গে সঙ্গে জালিয়াতির রিপোর্ট নাও করেন, তাহলেও গ্রাহক হিসেবে আপনার কোনও দায়বদ্ধতা থাকবে না।
আরও একটি ক্ষেত্রে আপনি খোয়া যাওয়া পুরো টাকা ফেরত পেতে পারেন। ধরুন, ব্যাঙ্ক বা আপনার— কারও তরফেই কোনও ভুল হয়নি। কিন্তু তৃতীয় কোনও পক্ষের নিরাপত্তা গাফিলতির কারণে জালিয়াতি হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক থেকে লেনদেনের মেসেজ পাওয়ার তিনটি কর্মদিবসের (ওয়ার্কিং ডে) মধ্যে যদি আপনি অভিযোগ জানান, তবে ক্ষতির দায় আপনার ওপর বর্তাবে না। অর্থাৎ, খোয়া যাওয়া টাকার ক্ষেত্রে গ্রাহকের 'জিরো লায়াবিলিটি' বা শূন্য দায়বদ্ধতা থাকবে।
অভিযোগ পাওয়ার ১০টি কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাঙ্ককে ওই খোয়া যাওয়া টাকা সাময়িকভাবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফেরত দিতে হয়। ব্যাঙ্কিং পরিভাষায় একে 'শ্যাডো রিভার্সাল' বলা হয়। ব্যাঙ্ক জালিয়াতির তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই ব্যাঙ্ককে এই সাময়িক টাকা ফেরত দেওয়ার কাজটি করতে হয়।
আপনার বা ব্যাঙ্কের কোনও ভুল না থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হওয়া জালিয়াতির ক্ষেত্রে অভিযোগ জানাতে দেরি হলে কিন্তু বড় ক্ষতি হতে পারে।
৪ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগ জানালে: আরবিআই-এর ঠিক করে দেওয়া নির্দিষ্ট সীমা অথবা আপনার খোয়া যাওয়া টাকার পরিমাণ— এই দুটির মধ্যে যেটি কম হবে, সেটিই আপনার ক্ষতি হিসেবে ধরা হবে।
৭ কর্মদিবসের পর অভিযোগ জানালে: এক্ষেত্রে টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ব্যাঙ্কের নিজস্ব নীতির ওপর নির্ভর করবে।
তাই আপনি যতই ব্যস্ত থাকুন বা সফরে থাকুন না কেন, অ্যাকাউন্টে কোনও সন্দেহজনক লেনদেন চোখে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ককে খবর দিন।