
হেলথ ইনস্যুরেন্স পলিসি একবার করিয়ে নিলে, আমরা অনেকেই আর সেদিকে ফিরে তাকাই না। সেটা হতে পারে কোম্পানির দেওয়া পলিসি, অথবা বহু বছর আগে কেনা কোনও ব্যক্তিগত পলিসি। কিন্তু আজকাল চিকিৎসার খরচ যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে একটা প্রশ্ন প্রায়ই মনে আসে – একটা পলিসিতে কি সব সামলানো সম্ভব? নাকি একাধিক পলিসি রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক পলিসি রাখাই ভালো। 2026 সালের জুলাই মাসের আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একাধিক স্বাস্থ্য বিমা বা হেলথ ইনস্যুরেন্স পলিসি কিনতে পারেন, এতে কোনও আইনি বাধা নেই। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসার খরচ সামলানো, কোম্পানির পলিসির সীমাবদ্ধতা কাটানো এবং মোট কভারেজের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য অনেকেই এখন একাধিক পলিসির দিকে ঝুঁকছেন।
ধরুন, আপনার কোম্পানি আপনাকে একটি গ্রুপ হেলথ ইনস্যুরেন্স দিয়েছে। এর পাশাপাশি অনেকেই নিজের জন্য আলাদা একটি পলিসি কিনে রাখেন। কারণ, কোম্পানির দেওয়া ইনস্যুরেন্সের সুবিধা ততদিনই পাবেন, যতদিন আপনি ওই সংস্থায় চাকরি করছেন। চাকরি বদলালে বা ছেড়ে দিলে ওই সুরক্ষা আর থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় পলিসিটি আপনার বড় ভরসা হয়ে উঠবে।
এছাড়াও, আপনার বর্তমান পলিসির কভারেজ যদি কম মনে হয়, তাহলেও নতুন পলিসি নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। ধরা যাক, আপনি কয়েক বছর আগে ৫ লক্ষ টাকার একটি পলিসি করিয়েছিলেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, বিশেষ করে বড় শহরগুলির হাসপাতালে চিকিৎসার বিল খুব সহজেই সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে যেতে পারে। তখন বাকি টাকা পকেট থেকে দিতে হবে।
দুটি পলিসি আছে মানে এই নয় যে আপনি একই বিলের জন্য দু'বার টাকা দাবি করতে পারবেন। আপনার চিকিৎসার জন্য যা খরচ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি টাকা আপনি ক্লেম করতে পারবেন না। নিয়ম হল, যদি চিকিৎসার খরচ আপনার প্রথম পলিসির সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে বাকি টাকার জন্য আপনি দ্বিতীয় পলিসিতে ক্লেম করতে পারবেন।
কিছু বছর আগে ইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (IRDA)-র আনা নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পলিসি হোল্ডার নিজেই ঠিক করতে পারেন তিনি কোন কোম্পানির কাছে আগে ক্লেম করবেন। একটি কোম্পানি তার ভাগের টাকা দিয়ে দেওয়ার পর, বাকি খরচের জন্য দ্বিতীয় কোম্পানির কাছে শর্ত মেনে ক্লেম করা যায়।
একাধিক পলিসি থাকলে সেগুলির রিনিউ করার তারিখ, পলিসির কাগজপত্র এবং ক্লেম করার পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। নতুন কোনও পলিসি কেনার সময় আপনার আগে থেকে থাকা পলিসির কথা নতুন কোম্পানিকে অবশ্যই জানান। কোনও তথ্য গোপন করলে ক্লেম করার সময় বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।