চলতি মরশুমে শাহবাজ, শ্রীবৎস, অনুস্টুপ দের হাত ধরে রঞ্জি জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলা। শেষ বার রঞ্জি জয়ের পর কেটে গেছে ৩০ বছর। মাঝে কেবলমাত্র ২ বার রঞ্জি ফাইনালে উঠতে পেরেছে বাংলা। কিন্তু দিল্লি বা মুম্বাইয়ের কাছে হেরে ট্রফি অধরা থেকে গেছে। এইমুহুর্তে কর্ণাটকের সাথে সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে বাংলা। সেখানে প্রথম তিন দিনের চিত্র দেখে ট্রফির স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই। সৌরভ গাঙ্গুলি সিএবি প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পর থেকে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছিলেন এই কাজে। বাংলার ক্রিকেটের উন্নতির জন্য তিনি এনেছিলেন "ভিশন ২০২০" এর মতো প্রজেক্ট। তার অংশ হয়ে ওয়াকার ইউনিস, মুথাইয়া মুরলিধরণ, ভিভিএস লক্ষণের মতো প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটাররা কোচিং করিয়ে গেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোথায় যেন খামতি থেকে যাচ্ছিল। এই মরশুমের শুরুতেও সিনিয়র বোলার অশোক দিন্দার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ও সেই অভিযোগ বশত তার দল থেকে বাদ পড়া, যোগ্য ক্রিকেটারদের দলে সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ সব মিলিয়ে খানিকটা টালমাটাল পরিস্থিতি চলছিল। সেটা কাটিয়ে সেমিতে উঠা গেছে দেখে অনেকেরই মনে প্রশ্ন যে তবে কি বাংলার তৃতীয় রঞ্জি জয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ কি এসে গিয়েছে? শনিবার টসে জিতে বাংলাকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় কর্ণাটক। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার ধারা অব্যহত রেখে স্কোরকার্ডে ১০০ রান তোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় বাংলার টপ অর্ডার। এই অবস্থায় রুখে দাঁড়ান অনুস্টুপ মজুমদার। শাহবাজ আহমেদ এবং আকাশ দীপ-কে সাথে নিয়ে প্রবল লড়াই লড়তে শুরু করেন তিনি। ফলস্বরূপ লাঞ্চের আগে পুরো টপ-অর্ডার কে হারিয়ে ফেলা বাংলা দিনের শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৭৫। গোটা টুর্নামেন্টের মতোই শেষদিকে ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যান শাহবাজ। আকাশ দীপের ব্যাটও ভরসা দেয় বাংলাকে। দ্বিতীয় দিন ঈশান পোরেলের সাথে জুটি বেঁধে দলকে তিনশোর গন্ডি পার করিয়ে নিজে ১৪৯ রানে অপরাজিত থেকে যান অনুস্টুপ। সকালের সুইংকে কাজে লাগিয়ে কর্ণাটক ব্যাটিং অর্ডারকে ছারখার করে দেন বাংলার বোলাররা। অসাধারণ বোলিং করেন ঈশান পোরেল। তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন আকাশ দীপ। ঈশান পাঁচ উইকেট এবং আকাশ দীপ নেন তিন উইকেট। কর্ণাটকের তারকা ব্যাটসম্যানরা সকলে ব্যর্থ। ভারতীয় দলে নিয়মিত থাকা কর্ণাটকের দুই তারকা লোকেশ রাহুল এবং মনীশ পান্ডে কে ফেরান বাংলার তৃতীয় পেসার মুকেশ কুমার। মাত্র ১২২ রানে অল-আউট হয়ে যায় কর্ণাটক। ১৯০ রানের বিশাল লিড পায় বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর ছিল ৪ উইকেট খুইয়ে ৭২। ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন সুদীপ চ্যাটার্জি। কিন্তু তৃতীয় দিনের খেলার শুরুতেই নিজের রানের সাথে আর মাত্র ৫ রান যোগ করে ফিরে ফিরে যান সুদীপ। শাহবাজ আহমেদের সাথে মিলে বাংলার ইনিংসের হাল ধরেন প্রথম ইনিংসের নায়ক অনুস্টুপ এবং সারা টুর্নামেন্ট জুড়ে ভালো পারফরম্যান্স করে আসা শাহবাজ। বাংলার স্কোরকে ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু শাহবাজ ৩১ এবং অনুস্টুপ ৪১ রানে ফিরে যাওয়ার পর মাত্র ১৬২ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। কর্ণাটকের হয়ে সেরা বোলিং করেন অভিমুন্য মিথুন। ২৩ রান দিয়ে তিনি নেন ৪ উইকেট। ৩ উইকেট নিয়েছেন রাজস্থান রয়েলসে খেলা কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। কর্ণাটকের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৫২। তৃতীয় দিনের শেষে কর্ণাটকের স্কোর ৩ উইকেট খুইয়ে ৯৮। কোনো রান না করে ঈশান পোরেলের বলে লেগ বিফোর হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে গেছেন নিউজিল্যান্ডে ওয়ান ডে ও টি টোয়েন্টি তে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কে এল রাহুল। ভারতের হয়ে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা করুন নায়ারও ফিরে গিয়েছেন। ক্রিজে রয়েছেন দেবদূত পল্লীকল এবং মনীশ পান্ডে।