শুভ্রাংশু হতে চাইছেন সব্যসাচী, বাধ্য হয়েই হজম করছে তৃণমূলও

Published : May 31, 2019, 02:13 PM IST
শুভ্রাংশু হতে চাইছেন সব্যসাচী, বাধ্য হয়েই হজম করছে তৃণমূলও

সংক্ষিপ্ত

লাগাতার দলকে আক্রমণ সব্যসাচী দত্তের খোদ দলনেত্রীর সিদ্ধান্তকেই কটাক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন মন্তব্য করছেন সব্যসাচী, ধারণা রাজনৈতিক মহলের

প্রথমে ভোট মিটতে না মিটতেই নিজের ওয়ার্ড অফিসে কোণঠাসা পরিবর্তনপন্থীদের মিটিংয়ের ব্যবস্খা করে দিলেন। সেখান থেকেই তৈরি হল নবজাগরণ মঞ্চ। তার পরে সরাসরি দলেরই বিধায়ক এবং দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে কটাক্ষ করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, নিজের ওয়ার্ড এবং বিধানসভায় হারার পরেও মন্ত্রিসভায় সুজিতের দায়িত্ববৃদ্ধি নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। এবার নৈহাটিতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। তাঁর কথায়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন না দল বিপদে পড়েছে। এমন ভাবনায় কর্মীদের মনোবল কমে বলেই মত সব্যসাচীর।

দলের কোপে পড়ার সম্ভাবনা আছে জেনেও সব্যসাচী যেভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন, তাতে অনেকেরই মনে হচ্ছে, মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুর মতোই তাঁর বিরুদ্ধেও যাতে দল পদক্ষেপ করে, সেটাই হয়তো চাইছেন সব্যসাচী। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুযোগ বুঝে দল বদলের অপবাদ গায়ে লাগাতে চাইছেন না বলেই হয়তো দলের তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার অপেক্ষা করছেন সব্যসাচী। আর সেই কারণেই জেনেবুঝে সংবাদমাধ্যমে বার বার এমন দল বিরোধী মন্তব্য করে চলেছেন তিনি। যার ঝাঁঝ ক্রমশ বাড়ছে। 

সব্যসাচী বিজেপি-তে যেতে পারেন বলে জল্পনা অনেক দিনের। নির্বাচনের আগেই নিজের বাড়িতে বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে ডেকে লুচি আলুর দম খাইয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সব্যসাচী। তার পরে দলের হস্তক্ষেপে কিছু দিন চুপচাপ থাকলেও ভোট মিটতেই যেন ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। সামান্য এদিক-ওদিক করলেই যেখানে নিজেদের অধিকাংশ বিধায়ককেই বাঁকা চোখে দেখছে শাসক দলের নেতৃত্ব, সেখানে সব জেনে বুঝেও সব্যসাচী লাগাতার দল বিরোধী মন্তব্য করে চলেছেন। 

দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে এরকমই স্নায়ুর লড়াই চলার পরে শেষ পর্যন্ত ভোটের পরেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে ছ' বছরের জন্য সাসপেন্ড করে দল। ইতিমধ্যেই বিজেপি-তে যোগ দিয়ে দিয়েছেন বীজপুরের বিধায়ক। অনেকেই বলছেন, সব্যসাচীও ঠিক এমনই একটি সুযোগের অপেক্ষায় আছেন। 

সব্যসাচীকে নিয়ে কয়েকদিন আগে পর্যন্ত ধীরে চলো নীতি নিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু গত দু' দিনে কার্যত সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরে তাঁর বিরুদ্ধে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে শাসক দলে। সূত্রের খবর, তৃণমূল নেতৃত্বও এখন সব্যসাচীর পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি নিজে থেকে দল ছাড়লে সমস্যা মিটে গেল। কারণ তৃণমূল নেতৃত্বও জানে, দল কোনও পদক্ষেপ করলে সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি-তে যোগ দেবেন বিধাননগরের মেয়র। সেক্ষেত্রে সব্যসাচীর সঙ্গে বিধাননগর এবং সংলগ্ন এলাকার আরও বেশ কিছু কাউন্সিলর এবং নেতাও তৃণমূলের হাতছাড়া হতে পারে। এই অবস্থায় কার্যত সব্যসাচীর সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের স্নায়ুর লড়াই হচ্ছে। আবার দল কোনও পদক্ষেপ না নিলে লাগাতার যদি সব্যসাচী দল এবং নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন কটাক্ষ করতে থাকেন, তাহলে তা তৃণমূলের জন্যও ভাল বিজ্ঞাপন হবে না। ফলে কে আগে পদক্ষেপ করেন, তৃণমূল না সব্যসাচী, সেটাই এখন দেখার।

বৃহস্পতিবার অবশ্য সব্যসাচী ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেছেন, "কাল ঝড় হবে  না বৃষ্টি হবে, আমি কী করে বলি।"

PREV
West Bengal news today (পশ্চিমবঙ্গের লাইভ খবর) - Read Latest west bengal News (বাংলায় পশ্চিমবঙ্গের খবর) headlines, LIVE Updates at Asianet News Bangla.
click me!

Recommended Stories

বঙ্গে কত দফায় বিধানসভা নির্বাচন? উত্তর ঝুলে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যার ওপর
মুর্শিদাবাদে ২ বছরের মধ্যেই বাবরি মসজিদ হবেই, বাবরি যাত্রা থেকে আশাবাদী হুমায়ুন কবীর