দেবদাসের সেই বিখ্যাত গান 'দোলা রে দোলা'-র শুটিংয়ের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত। সঙ্গে ছিল জ্বর আর ক্লান্তি। কিন্তু কোনও কিছুই তাঁর কাজের পথে বাধা হতে পারেনি। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, বলিউডে নাচের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা কেন আজও কিংবদন্তিতুল্য।
একটি বিশেষ দৃশ্য, যেখানে ঘুরে মাটিতে বসে পড়তে হয়, সেটি করতে প্রায় ১৩ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাধুরী একটানা ওই দৃশ্যটি শ্যুট করেন। ক্রমাগত ঘুরপাক খাওয়ার ফলে তাঁর মাথা ঘুরছিল, তবুও থামেননি। তাঁর এই নিষ্ঠা দেখে সেটের সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল।
23
এই অভিজ্ঞতা আরও বিশেষ হয়ে ওঠে কারণ মাধুরী কিংবদন্তি কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের স্টেপস বদলাতে রাজি হননি। সেটের সদস্যরা জানান, সরোজ খানের নির্দেশই ছিল তাঁর কাছে শেষ কথা। শারীরিক কষ্ট হলেও তিনি কখনও সহজ স্টেপস চাননি। এই গানটির জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি চলেছিল। মাধুরী এবং ঐশ্বর্য রাই বচ্চন ক্যামেরার সামনে আসার আগে দীর্ঘ রিহার্সাল করেন। সঞ্জয় লীলা বনসালির স্বপ্নের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে প্রতিটি এক্সপ্রেশন, পায়ের স্টেপ এবং হাতের মুদ্রা নিখুঁত হতে হতো। গানটির শুটিং চলেছিল ১৭ দিন ধরে, আর রিহার্সাল চলেছিল এক মাসেরও বেশি।
33
‘দোলা রে দোলা’ গানের আবেগ শুধু মাধুরীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কোরিওগ্রাফার সরোজ খান নিজেও তখন গুরুতর অসুস্থ। শোনা যায়, অসুস্থতার কারণে তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতে পারতেন না, তাই সেটের মেঝেতে শুয়েই কোরিওগ্রাফি পরিচালনা করতেন। বহু বছর পর বনসালি জানান, দেবদাস মুক্তির পর তিনি হাসপাতালে সরোজ খানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। দুর্বল শরীরেও সরোজজির প্রথম প্রশ্ন ছিল, দর্শকরা কি হলে পয়সা ছুড়ে গানটি উদযাপন করেছে? এই আবেগই বুঝিয়ে দেয়, কেন হিন্দি সিনেমায় মাধুরী-সরোজ জুটি আজও অপ্রতিরোধ্য। 'এক দো তিন' থেকে 'দোলা রে দোলা' পর্যন্ত, এই জুটি বলিউডি নাচের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.