
ধুরন্ধরের নেপথ্য কাহিনি: ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর বিরাট সাফল্যের পর কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা সময়টা জমিয়ে উপভোগ করছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই জায়গায় পৌঁছতে আমার ২০ বছর লেগেছে। এই সময়ে আমি ৩০০-র বেশি ছবিতে কাজ করেছি।"
'রং দে বসন্তী' থেকে শুরু
মুকেশ ছাবড়া তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ‘রং দে বসন্তী’ ছবি দিয়ে। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে বলিউডে কাস্টিংয়ের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। আগে প্রায় সব ছবিতেই সেই ৩-৪টে চেনা মুখ থাকত। একই ভিলেন, একই সাপোর্টিং চরিত্র। কিন্তু এখন দর্শকরা নতুন নতুন মুখ দেখতে পান। আজকের দিনে প্রায় প্রত্যেক বড় পরিচালক, এমনকি কমার্শিয়াল ছবির ক্ষেত্রেও, একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করেন।
ইনস্টাগ্রাম কাস্টিং নিয়ে স্পষ্ট মতামত
ইন্ডাস্ট্রিতে আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া বা ইনফ্লুয়েন্সারদের দেখে কাস্টিং করা নিয়ে একটা বিতর্ক চলছে। এই বিষয়ে মুকেশ ছাবড়া সাফ জানান, “আমি ইনস্টাগ্রাম থেকে ট্যালেন্ট খুঁজি না। আমার কাছে চিত্রনাট্য আসার পরেই আমি কাজ শুরু করি। আমার বিশ্বাস অডিশন আর একেবারে মাঠে-ঘাটে নেমে ট্যালেন্ট খুঁজে বের করার ওপর।"
‘রহমান ডাকাত’ চরিত্র নিয়ে যত মুশকিল
আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর জন্য কাস্টিং করা মোটেও সহজ ছিল না। ছাবড়া জানান, অনেক অভিনেতাই এই ছবির অংশ হতে রাজি হননি, কারণ তাঁরা মাল্টি-স্টারার ছবিতে কাজ করতে চাননি। বিশেষ করে “রহমান ডাকাত”-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য সঠিক অভিনেতা খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। ছাবড়া বলেন, "আমি যখন অক্ষয় খান্নাকে ফোন করি, তিনি প্রথমে বলেছিলেন ‘তুমি কি পাগল হয়ে গেছ?’ কিন্তু গল্পটা শোনার পর ‘দুর্দান্ত’ বলে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান।" একইভাবে, আর. মাধবনও খুব তাড়াতাড়ি এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হন। মুকেশ বলেন, "আমি মাধবনকে বলেছিলাম আমাদের মাত্র ১০-১২ দিন সময় লাগবে, আর তিনি সঙ্গে সঙ্গে হ্যাঁ বলে দেন।"
কাস্টিং নিয়ে অন্যরকম ভাবনা
কাস্টিং নিয়ে মুকেশ ছাবড়ার ভাবনাটা একটু অন্যরকম। তিনি বলেন, "আমি অভিনয় নিয়ে ভাবি না। আমি শুধু কাস্টিং নিয়ে ভাবি। যদি কোনও অভিনেতা চরিত্রের জন্য সঠিক হন, আমি তাঁকেই বেছে নিই, তাঁর অভিনয় নিখুঁত হোক বা না হোক।"
৩০০-র বেশি অডিশন আর ২ বছরের পরিশ্রম
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর কাস্টিংয়ের পিছনে 엄청 পরিশ্রম ছিল। ছাবড়া জানান, তিনি পর্দায় দেখানো প্রত্যেক ছোট-বড় চরিত্রকে নিজে কাস্ট করতে চেয়েছিলেন। তাঁর টিম প্রায় ২ বছর ধরে কাজ করেছে এবং ৩০০-র বেশি মানুষের অডিশন নিয়েছে।
নতুন প্রতিভা: সারা অর্জুন
এই ছবির মাধ্যমে সারা অর্জুনের মতো নতুন প্রতিভাও সুযোগ পেয়েছে। ছাবড়ার কথায়, "আমি ওর অডিশন দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। যে দৃশ্যে ও রণবীর সিংকে জিজ্ঞেস করে যে সে ভারতীয় এজেন্ট কি না, সেটাই ছিল ওর অডিশন।" আজ যখন ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিস এবং সাংস্কৃতিকভাবে একটি বড় সাফল্য, তখন কাস্টিংকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। মুকেশ ছাবড়ার পরিশ্রম এবং তাঁর ভাবনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সঠিক কাস্টিং একটি ছবির সাফল্যে কতটা বড় ভূমিকা পালন করে।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.